শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের ব্যবসা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) কমেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির বিক্রয় আয় দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৯৫ কোটি টাকা থেকে কমে গেছে প্রায় ৮ কোটি টাকা বা সাড়ে ৮ শতাংশ।
Advertisement
কোম্পানিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই প্রান্তিকের হিসাব চূড়ান্ত করা হয়।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল ব্যবসার পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক আয়েও বড় ধরনের পতন হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকে জমা অর্থের বিপরীতে সুদসহ অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়েছে ৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই খাতে আয় কমেছে প্রায় ৩ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশের বেশি।
ব্যবসা ও আর্থিক আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে মুনাফায়ও। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর–পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ২ কোটি টাকা বা প্রায় ১৪ শতাংশ।
Advertisement
তবে ব্যবসা কমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালন খরচও কমিয়েছে কোম্পানিটি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পরিচালন খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই খাতে খরচ কমেছে প্রায় ২ কোটি টাকা।
অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। চলতি বছরে ৮৭ কোটি টাকার বিক্রয়ের বিপরীতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬০ কোটি টাকা, যা মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ।
কোম্পানিটি বাংলাদেশে হরলিক্স, বুস্ট, মালটোভাসহ বিভিন্ন পুষ্টি ও খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে। এর আগে এই ব্যবসা পরিচালনা করত গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন। ২০২০ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকায় গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের শেয়ার অধিগ্রহণ করে ইউনিলিভার। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ইউনিলিভারের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার নামে শেয়ারবাজারে লেনদেন হচ্ছে।
এদিকে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিট ফাইন্যান্স আয় কমে যাওয়া এবং গ্রস মার্জিনে সামান্য সংকোচনের কারণে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে। তবে অপারেটিং ব্যয়ে ব্যয়-সাশ্রয়মূলক উদ্যোগ নেওয়ায় এই প্রভাব আংশিকভাবে সামাল দেওয়া গেছে।
Advertisement
অন্যদিকে নিট মুনাফা কমলেও শেয়ারপ্রতি অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, আগের বছরে অধিকাংশ ইউস্যান্স পেয়েবল অ্যাট সাইট (ইউপিএএস) এলসি পরিশোধ করা হয়েছিল, যা সে সময় অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্জিত মুনাফা জমা হওয়া এবং এ সময়ে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় শেয়ারপ্রতি নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) বেড়েছে।
এমএএস/এমএএইচ/