রাজনীতি

চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২৫

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে তারা ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।

কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। কিছু সময়ের জন্য কলেজের একাডেমিক পরিবেশ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

Advertisement

শিবিরের মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করে। এতে আমাদের ১৫-১৬ জন ভাই আহত হয়। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের মোটামুটি ১০-১২ জন আহত হয়েছে। তারা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শিবির-জামায়াত একত্রে জড়ো হয়ে আমাদের ধাওয়া দিলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলি মাত্র।’

ঘটনার জেরে দুপুরের পর কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকরা প্রথমে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Advertisement

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স ছিল। উত্তপ্ত পরিস্থিতি আমরা সফটলি হ্যান্ডেল করে নিয়ন্ত্রণে এনেছি, যা আপনারা মিডিয়াতে দেখেছেন।’

এমআরএএইচ/একিউএফ