ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১৭তম বিধানসভা নির্বাচনের কারণে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা চার দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসাধারী যাত্রী ও ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমিত পরিসরে যাতায়াতের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
Advertisement
সংশ্লিষ্ট বন্দর সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার নির্বাচনের কারণে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির থাকছে। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে পুনরায় বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি ও চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে কোচবিহার জেলা প্রশাসন। সীমান্ত এলাকা একপ্রকার সিলগালা করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা বজায় রাখতে চ্যাংড়াবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন, ভোটের দিন, পরের দিন এবং আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
Advertisement
বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপারেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সাইফুর রহমান জানান, ভারতের নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশিদের জন্য বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসাধারী যাত্রী এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকেরা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। এছাড়া এই বন্দর দিয়ে নেপাল ও ভুটানের নাগরিকদের যাতায়াত স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।
সার্বিক বিষয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ মহি উদ্দিন বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন উপলক্ষে বন্দর বন্ধের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার চিঠিটিও আমাদের দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
মহসীন ইসলাম শাওন/এমআরএম
Advertisement