এক মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে অবস্থিত কড়ইতলী-গোবরাকুড়া স্থলবন্দরে কয়লা আমদানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কড়ইতলী স্থলবন্দরে ২৭ গাড়ি ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দরে ১৮ গাড়ি ভারতীয় কয়লা এসেছে। এদিন মোট ৪৫টি ট্রাকে আনুমানিক ৫৪০ টন কয়লা এসেছে।
Advertisement
বুধবার (২২ এপ্রিল) এপ্রিল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. শাহীন মাহমুদ।
তিনি বলেন, গত বছরের ৮ মে কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৮৪ ট্রাক কয়লা আমদানির পর আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২৯ নভেম্বর বিকেলে ২০ ট্রাকে প্রায় ২৪০ টন কয়লা এসেছে। এরপর থেকে ভারতীয় কয়লা আসতেই থাকে। কিন্তু চলতি বছরের ১৬ মার্চের পর থেকে আর কয়লা নিয়ে এই স্থলবন্দরে প্রবেশ করেনি কোনো ট্রাক। তখন থেকেই আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কড়ইতলী স্থলবন্দরে ২৭ গাড়ি ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দরে ১৮ গাড়ি ভারতীয় কয়লা এসেছে। মোট ৪৫টি ট্রাকে আনুমানিক ৫৪০ টন কয়লা এসেছে।
Advertisement
তিনি বলেন, গত মার্চ মাসে ১ হাজার ১৮০টি ট্রাকে প্রায় ১৪ হাজার ১৬০ টন কয়লা এসেছে। গত বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯১৯টি গাড়িতে প্রায় ৩৫ হাজার ২৮ টন কয়লা এসেছে।
গোবরাকুড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের মহাসচিব অশোক কুমার অপু বলেন, বছরের প্রায় ৬ মাস কয়লা আমদানি হওয়ায় এ সময়টুকু বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য বাড়ে। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এবার আমরা পর্যাপ্ত কয়লা আমদানি করতে পারিনি।
এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের মেঘালয়ে সাম্প্রদায়িক হামলা এর অন্যতম কারণ। এছাড়া যেসব ব্যক্তি কয়লা কিনছে, ময়মনসিংহে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে ট্রাক চালকদের কিছু টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। তবে ভারতের মেঘালয় জ্বালানি সংকট নেই। ডিজেলচালিত ট্রাকগুলো ভারতে ইচ্ছামতো তেল নিতে পারছে। ফলে আমাদের স্থলবন্দরে এসব ট্রাককে কয়লা নিয়ে আসতে তেল সংকটে পড়তে হবে না। কিন্তু মেঘালয়ে মুসলিম বাঙালিদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা মেঘালয়ে বাঙালিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সেখানে অনেকের মতো কয়লার কাজে নিয়োজিত বাঙালি শ্রমিক ও ট্রাক চালকদের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ফলে তারা অনেকেই কাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। এছাড়া বাঙালি এক্সপোর্টাররাও আতঙ্কে পড়েন। তারা আপাতত কয়লা রপ্তানি করা বন্ধ করে দেন। মূলত মেঘালয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার কারণে আতঙ্কে কয়লা আমদানি-রপ্তানিতে প্রভাব পড়ে।
কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. খোকন বলেন, আমরা চাই সারাবছর বন্দর দুটি চালু থাকুক। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা না থাকায়, তা সম্ভব হয় না। ১৬ মার্চের পর থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এক মাস পর মঙ্গলবার থেকে আবারো কয়লা আমদানি শুরু হয়েছে। এতে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। বন্দরে আমদানি-রপ্তানি সারাবছর স্বাভাবিক থাকলে সরকারও মোটা অঙ্কের রাজস্ব পাবে।
Advertisement
কামরুজ্জামান মিন্টু/এফএ/এএসএম