দেশজুড়ে

সরকারি হাসপাতালের দুঃখ জনবল খরা, আধুনিক যন্ত্রপাতি যেন ‘শো-পিস’

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে ঠিকমতো চালু করা যায়নি ভবনটি। আধুনিক সব যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো কাজে আসছে না। ১০ শয্যা আইসিইউ থাকলেও একই সংকটে তা চালু করা যায়নি। এতে সেবা না পেয়ে যেতে হচ্ছে ফরিদপুর, ঢাকা বা বরিশাল। একই রকম সংকট দেখা গেছে জেলা-উপজেলার অন্য হাসপাতালগুলোতেও। এতে সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো সেবা দিতে না পারার পেছনে মূল কারণ জনবল সংকট।

Advertisement

হিসাব অনুযায়ী, জেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ১১২০টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে জনবল আছে ৭৫৯ জন। ফাঁকা রয়েছে আরও ৩৬১টি পদ। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক পদে ২৩৬ জনের বিপরীতে আছেন ১৩৯ জন। শূন্য পদ ৯৭।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল:মাদারীপুর শহরের শকুনী মৌজায় অবস্থিত জেলা সদরের এই প্রধান হাসপাতালটি নতুন ভবন ও কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে। আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালটি ৫ উপজেলার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা হলেও এটি এখনো চলছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে। ২০১৯ সালে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাততলা ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি উদ্বোধন করা হয়।

‘মাদারীপুরের পুরো জেলা ও উপজেলায় চরমভাবে জনবল সংকট রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে মাদারীপুরের ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকটের মধ্যদিয়েই সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বারবার জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হচ্ছে। আশা করছি সংশ্লিষ্টরা জনবল নিয়োগ দিলে মাদারীপুরের স্বাস্থ্যসেবার আরও উন্নতি করা সম্ভব হবে।’

Advertisement

হাসপাতালটিতে ৩ কোটি টাকার আইসিইউ ইউনিটসহ সিটিস্ক্যান, ডিজিটাল এক্স-রে ও আল্টাসনোগ্রামের মতো উচ্চমূল্যের যন্ত্রপাতি কেনা হলেও জনবল না থাকায় সেগুলো অকেজো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭টি পদের বিপরীতে ৫৯টি পদই বর্তমানে শূন্য, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিকিৎসকের ৩৭টি খালি পদ। জনবল সংকটের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে রোগীরা তাদের প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, আড়াইশ শয্যার প্রয়োজনীয় পদ অনুমোদনের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাদারীপুর সিভিল সার্জন অফিস:জেলা সিভিল সার্জন অফিসে ৩৪ পদের বিপরীতে জনবল রয়ছে ১৭ জন। বাকি ১৭ পদ শূন্য। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির ৯ জনের মধ্যে আছেন ৪ জন। দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪ পদের সবগুলোই শূন্য। তৃতীয় শ্রেণির ১৩ পদের বিপরীতে ৬টি ও চতুর্থ শ্রেণির ৮ পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য। এরমধ্যে একজন চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়:মাদারীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১২৫ পদের বিপরীতে জনবল আছে ৯৮টিতে, শূন্যপদ রয়েছে ২৭টি। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৮ জনবলের বিপরীতে আছেন ১৬ জন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে আছেন একজন, তৃতীয় শ্রেণির ১০১ পদের মধ্যে ২২টি ও চতুর্থ শ্রেণির ৫টির মধ্যে শূন্য ৩টি। এরমধ্যে দুইজন চিকিৎসকের পদ ফাঁকা রয়েছে।

এদিকে চালক না থাকায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার জন্য সরকারি গাড়িটি পড়ে আছে অলসভাবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসকরা যেন ‘ঢাল-তলোয়ারহীন সেনাপতি’ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত শিশুতে ঠাসা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল‘ডাক্তার হঠাৎ এলেও দালাল আসে নিয়মিত’

মাদারীপুর জেলার বক্ষব্যাধি ক্লিনিক:মাদারীপুর জেলার বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে ১৭টি পদের বিপরীতে ৮ জন কর্মরত আছেন, খালি আছে ৯টি পদ। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ২ জনবলের বিপরীতে আছেন ১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো পদ নেই। তৃতীয় শ্রেণির ৮ জনের বিপরীতে আছেন ৪ জন ও চতুর্থ শ্রেণির ৭ জনের বিপরীতে আছেন ৩ জন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।

ডাসার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:মাদারীপুর জেলা ঘোষণার সাড়ে চার বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত ডাসার উপজেলায় কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

‘এখানে ১০ বেডের আইসিইউ থাকলেও চালু না হওয়ায় আমরা সেবা পাচ্ছি না। সামান্য একটু সমস্যা দেখা দিলেই হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফরিদপুর বা ঢাকাতে পাঠানো হয়। আইসিইউ চালু থাকলে এই প্রবণতা কিছুটা কমতো।’

জানা যায়, নিজ উপজেলায় চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা মাদারীপুর জেলা সদরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি জরুরি রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। এই বিশাল জনপদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩৬ জনবলের বিপরীতে আছেন ১৬৩ জন। খালি পদের সংখ্যা ৭৩টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৪৯ জনবলের বিপরীতে আছেন ৩২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৮ পদের মধ্যে আছেন ৩৬ জন, তৃতীয় শ্রেণির ১২৬ জনের বিপরীতে ৮৫ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৩ জনের বিপরীতে আছেন ১০ জন। এর মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১০ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিশাল জনপদের চিকিৎসায় এটি প্রধান ভরসা হলেও ডাক্তার সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সেবা। ফলে সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দিকে ঝুঁকছেন রোগীরা।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১২ জনবলের বিপরীতে আছেন ১৫৪ জন। খালি পদের সংখ্যা ৫৮টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৪২ জনবলের বিপরীতে আছেন ২৮ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪১ পদের মধ্যে ৩৯ জন আছেন, তৃতীয় শ্রেণির ১০৫ জনের বিপরীতে আছেন ৭৫ জন। চতুর্থ শ্রেণির ২৪ জনের বিপরীতে আছেন ১২ জন। এর মধ্যে ১৪ জন চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি প্রায় সময় অকেজো হয়ে পড়ে থাকে। হাসপাতালে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্থাকায় রোগীরা আশপাশের ক্লিনিকগুলোতে ভিড় করছেন।

আরও পড়ুন:খামারিদের লাভের স্বপ্নে ‘কাঁটা’ ভারতীয় গরুজ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল ব্যবসায় ধসবুঝে নেওয়ার ‘ঠেলাঠেলিতে’ দুই বছরেও চালু হয়নি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬৭ জনবলের বিপরীতে আছেন ১৭৩ জন। খালি পদের সংখ্যা ৯৪টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৫২ পদের মধ্যে শূন্য ১৫টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৮ পদের মধ্যে খালি ২টি, তৃতীয় শ্রেণির ১৫২ জনের বিপরীতে শূন্য ৬৯টি, চতুর্থ শ্রেণির ২৫ জনের বিপরীতে শূন্য ৮টি। এর মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিবচরের গুয়াতলা মৌজায় হাসপাতালের চকচকে ভবন দাঁড়িয়ে থাকলেও নেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা। ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না উপজেলাবাসী।

রাজৈরের কবিরাজপুর ২০ শয্যা হাসপাতাল:রাজৈরের কবিরাজপুর ২০ শয্যা হাসপাতালের ২৫ জনবলের বিপরীতে আছেন ৮ জন। খালি পদের সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৬ জনবলের বিপরীতে আছেন ৩ জন। দ্বিতীয় শ্রেণির ৬ পদের মধ্যে ৫ জন আছেন, তৃতীয় শ্রেণির ৪টি পদের বিপরীতে ৪টিই শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির ৯টি পদের বিপরীতে ৯টিই শূন্য। এর মধ্যে ৩ জন চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।

শিবচরের ২০ শয্যাবিশিষ্ট ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টার:শিবচরের ২০ শয্যাবিশিষ্ট ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টারটি ২০২৩ সালে নির্মাণ কাজ শেষে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অথচ জনবলের অভাবে কার্যক্রম এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। জনবল অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলে সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়।

জানা যায়, উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পার হলেও জনবল সংকটে চালু হয়নি ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ট্রমা সেন্টার। চিকিৎসক ও নার্সসহ ৩৪টি পদের প্রস্তাব করা হলেও এখন পর্যন্ত একজন কর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে আধুনিক এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে সেন্টারটি চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘এখানে ১০ বেডের আইসিইউ থাকলেও চালু না হওয়ায় আমরা সেবা পাচ্ছি না। সামান্য একটু সমস্যা দেখা দিলেই হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফরিদপুর বা ঢাকাতে পাঠানো হয়। আইসিইউ চালু থাকলে এই প্রবণতা কিছুটা কমতো।’

ডাসার উপজেলার গীতা রাণী দাস বলেন, ‘উপজেলা ঘোষণার প্রায় ৫ বছর হতে চললেও এখনো একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়নি। আমাদের চিকিৎসা নিতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এই উপজেলাতেও একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দ্রুত নির্মাণ করা হোক।’

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রমজানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন কাজী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছি। অনেক সময় ডাক্তার পাই না। তখন প্রাইভেটে দেখাতে হয়। আমি গরীব মানুষ, বাধ্য হয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে হয়।’

মাদারীপুরের চন্দ্র পরিবহনের সুপারভাইজার মামুনুর রশিদ বলেন, ‘মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। তাই শিবচরের ট্রমা সেন্টার চালু হওয়া জরুরি। কিন্তু শুনেছি লোকবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হোক।’

নিরাপদ চিকিৎসা চাই মাদারীপুর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, ‘জনগণের টাকায় নির্মিত হাসপাতাল, অথচ জনগণ এর কোনো পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাচ্ছে না। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিইউ সেবার জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হলেও সেবা দেওয়ার কোনো অগ্রগতি নেই। তাই জনগণের সেবার কথা চিন্তা করে দ্রুত আইসিইউ চালু করা হোক। পাশাপাশি মাদারীপুর জেলা ও উপজেলার সব সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জনবল নিয়োগ দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা হোক।’

মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা সরদার মোহাম্মদ খলিলুজ্জামান বলেন, ‘মাদারীপুরের পুরো জেলা ও উপজেলায় চরমভাবে জনবল সংকট রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে মাদারীপুরের ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকটের মধ্যদিয়েই সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বারবার জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হচ্ছে। আশা করছি সংশ্লিষ্টরা জনবল নিয়োগ দিলে মাদারীপুরের স্বাস্থ্যসেবার আরও উন্নতি করা সম্ভব হবে।’

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদীন কমল বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কিছু সংখ্যক চিকিৎসক থাকলেও যোগদানের পরপরই অনেকে অন্যত্র চলে যান। সেই পদে নতুন কাউকে পদায়নও করা যাচ্ছে না। জেলার সবগুলো সরকারি হাসপাতালেই জনবল সংকট রয়েছে। এ ব্যাপারে বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে, মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু জনবল নিয়োগ দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারপরও এ ব্যাপারে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে করে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়।’

এমএন/জেআইএম