দেশজুড়ে

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

রাজশাহীতে বইছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর ফলে তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

Advertisement

বুধবার (২২ এপ্রিল) জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। টানা বৃষ্টিহীন আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গত ১৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫.২ ডিগ্রি। ১৬ এপ্রিল তাপমাত্রা কিছুটা কমে সর্বোচ্চ ৩৪.২ ও সর্বনিম্ন ২৬.২ ডিগ্রিতে নেমে আসে। ১৭ এপ্রিল আবার বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৬.৮ ও সর্বনিম্ন ২৫.৫ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়। ১৮ এপ্রিল সর্বোচ্চ ৩৪.৫ ও সর্বনিম্ন ২৬.৫ ডিগ্রি এবং ১৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ ৩৪.৫ ও সর্বনিম্ন ২১.৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।

এরপর ২০ এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করে। এদিন সর্বোচ্চ ৩৭.৬ ও সর্বনিম্ন ২৪.৮ ডিগ্রি ছিল। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং সর্বনিম্ন ২৬.২ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়। আজ ২২ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ এবং সর্বনিম্ন ২৭.৫ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়।

Advertisement

এদিকে তিব্র গরমে শহরের রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। তবে খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, গরমে রাস্তায় থাকা যায় না। যাত্রীও কম থাকায় আয়ও কমেছে। মাথা ঘুরায়, মাঝে মাঝে বসে থাকতে হয়।

দিনমজুর সোহেল রানা জানান, রোদে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। শরীর একদম শুকিয়ে যাচ্ছে, বারবার পানি খেতে হচ্ছে। কাজ না করলে আবার সংসারও চলবে না।

শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, দুপুরে বাইরে বের হওয়া একদমই কঠিন। ক্লাসে যেতে কষ্ট হয়, গরমে মনোযোগও রাখা যাচ্ছে না।

Advertisement

চা বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, গরমে চা বিক্রি কমে গেছে। মানুষ ঠাণ্ডা কিছু বেশি খোঁজে। সারাদিন দোকানে বসে থাকলেও বিক্রি আগের মতো নেই।

রাজশাহী অবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের না হওয়া, বেশি করে পানি পান এবং রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শংকর কে বিশ্বাস বলেন, এ সময় হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন গরমজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, প্রচুর পানি পান করা এবং রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা ভালো।

এএইচ/এএসএম