দেশে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে লোডশেডিং। তীব্র গরমে লোডশডিং বাড়ায় জনজীবন নাজেহাল। শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
Advertisement
লোডশেডিং বাড়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, ভারতীয় কোম্পানি আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেমে গেছে অর্ধেকে। ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ভারতের কোম্পানি আদানির একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) দিনগত রাত ১টার পর এটি বন্ধ হয়েছে৷ এ কারণে আমরা ভারত থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পেতাম এখন তার অর্ধেক পাচ্ছি।
Advertisement
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, গতকাল (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা-পিকে (রাত ৯টা) আদানি থেকে বিদ্যুৎ এসেছে ১ হাজার ৪৪৯ মেগাওয়াট। আজ (২২ এপ্রিল) ডে-পিকে (দুপুর ১২টা) বিদ্যুৎ এসেছে ৭৫১ মেগাওয়াট।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে সেখানে। একটি ইউনিট বন্ধের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তথ্য বলছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা-পিকে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট, আজ বুধবার ডে-পিকে লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ২৭১ মেগাওয়াট।
এদিকে, জ্বালানি সংকটকালীন উৎপাদন ধরে রেখে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। এর মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমায় চাপ আরও বেড়েছে। আদানির ওই ইউনিটটির উৎপাদনে ফিরতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণ করা হচ্ছে।
Advertisement
এনএস/এমকেআর