ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)। ভোট নেওয়া হবে রাজ্যের ১৫২টি আসনে। এতে ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে এক হাজার ৪৭৮ প্রার্থীর।
Advertisement
এসব প্রার্থীর মধ্যে পরিবারতন্ত্রের ছাপ দেখা গেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিরোধীদল বিজেপি ছাড়াও কংগ্রেস কিংবা বামফ্রন্ট- নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া অনেক প্রার্থীই সম্পর্কে বাবা-ছেলে কিংবা স্বামী-স্ত্রী, কেউ আবার ভাই-বোন ও ভাই-ভাই।
বেহালা পশ্চিম আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়াইয়ে আছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে তার ভাই শুভাশীষ দাস মহেশতলা আসন থেকে লড়ছেন। এই মহেশতলা আসনে বর্তমান বিধায়ক হলেন রত্না ও শুভাশীষের বাবা দুলাল দাস।
গতবারের মতো এবারও নির্বাচনের ময়দানে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী জুটি। মন্ত্রী বেচারাম মান্না সিঙ্গুর আসন থেকে এবং তার স্ত্রী করবী মান্না হরিপাল আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
Advertisement
এই তালিকায় বিধায়কদের ছেলেমেয়েরাও রয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। বাবার জেতা আসন পানিহাটি থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তীর্থঙ্কর। মূলত বয়সের কারণেই এবার নির্বাচনি ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নির্মল।
রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী মলয় ঘটক পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল উত্তর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে তার ভাই অভিজিৎ ঘটক কুলটি আসন থেকে লড়াই করছেন।
প্রয়াত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও মন্ত্রী সাধন পান্ডের মেয়ে অভিনেত্রী শ্রেয়া পান্ডে মানিকতলা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শ্রেয়ার মা সুপ্তি পান্ডে বর্তমানে ওই আসনেরই বিধায়ক। মায়ের বদলে এবার প্রার্থী মেয়ে।
তৃণমূলের চারবারের সংসদ সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জির ছেলে শীর্ষাণ্য ব্যানার্জি উত্তরপাড়া আসন থেকে লড়াই করছেন। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য মমতা বালা ঠাকুরের মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর আছেন বাগদা আসনে। বনগাঁ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শংকর আঢ্যর মেয়ে ঋতুপর্ণা আঢ্য বনগাঁ দক্ষিণ আসনে লড়বেন।
Advertisement
এক্ষেত্রে খুব একটা পিছিয়ে নেই বিজেপিও। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও কলকাতার ভবানীপুর আসনে আছেন রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার বড় ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী লড়বেন এগরা আসনে। তাদের বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দর প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর বাগদা আসনে, সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্য অর্জুন সিং নোয়াপাড়া আসনে ও তার ছেলে পবন সিং লড়াই করছেন ভাটপাড়া আসনে। অর্থাৎ এবার বাবা-ছেলে উভয়কেই দেখা যাবে নির্বাচনি লড়াইয়ের ময়দানে।
সাবেক কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ঘোষের ছেলে সজল ঘোষ বরানগর আসনে লড়াই করছেন। বালিগঞ্জ আসন লড়ছেন কংগ্রেসের প্রার্থী রোহন মিত্র। রোহনের বাবা প্রয়াত সৌমেন মিত্র ছিলেন কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক সভাপতি।
সাবেক সংসদ সদস্য দেবেন্দ্র মাহাতোর ছেলে নেপাল মাহাতো বাগমুন্ডি ও সিনিয়র ফরওয়ার্ড ব্লক (এফবি) নেতা ও চারবারের বিধায়ক মোহাম্মদ রমজান আলীর ছেলে কংগ্রেসের প্রার্থী আলী ইমরান রামজ (ভিক্টর) লড়ছেন চাকুলিয়া আসনে।
এই ধারাবাহিকতা থেকে সিপিআইএমও পিছিয়ে নেই। রাজারহাট-নিউটাউন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেবের ছেলে সপ্তর্ষি দেব। দমদম উত্তর আসন থেকে সিপিআইএমের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক বিধায়ক পদ্মিনীধি ধরের নাতনি দীপশিতা ধর।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনি ময়দানে দেখা যাবে সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং কংগ্রেস আইকন প্রয়াত এ বি এ গনিখান চৌধুরীর ভাতিজি মৌসম বেনজির নূরকেও। কংগ্রেসের টিকিটে মালতিপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নূর।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি থেকে শুরু করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, রাজ্যের সাবেক কংগ্রেস সভাপতি প্রয়াত সৌমেন মিত্র, কিংবা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মতো নেতারা উঠে এসেছেন মাঠ পর্যায় থেকে লড়াই-আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। তাদের পরিবারের পূর্বসূরীদের কারোরই রাজনীতির সঙ্গে যোগ ছিল না। কিন্তু সেই দৃশ্য ক্রমশ পাল্টাচ্ছে। একসময় যে বংশ-পরম্পরায় রাজনীতিকে অন্য রাজ্যের বিষয় বলে মনে করা হতো, এখন এই বাংলার প্রতিটি প্রধান দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে বংশ-পরম্পরায় রাজনীতির সম্পর্ক।
ডিডি/একিউএফ