সিরিজে শেষ হাসি কার-বাংলাদেশ নাকি নিউজিল্যান্ডের? আজ সূর্য ডোবার আগেই মিলবে এ প্রশ্নের উত্তর। ২৩ এপ্রিল সেই প্রশ্ন সামনে রেখেই মাঠে নামবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল আর টম ল্যাথামের কিউই বাহিনী।
Advertisement
বৃহস্পতিবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বেলা এগারটায়।
দুই দল একটি করে ম্যাচ জেতায় আজকের ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারণী লড়াই বা অঘোষিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে। যে দল জিতবে, সিরিজ হবে সে দলের।
ঢাকার শেরে বাংলায় প্রথম ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি টাইগাররা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৬ রানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। দ্বিতীয় খেলায় ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিং আর ওপেনার তানজিদ তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে একটি ভালো ও উজ্জীবিত জয়ে মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা।
Advertisement
ওই ম্যাচের পারফরম্যান্স আশা জাগাচ্ছে। ভক্ত ও সমর্থকদের স্থির বিশ্বাস, ২০ এপ্রিল শেরে বাংলায় বোলিং ও ব্যাটিংয়ে যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে, ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে যদি সেই বাংলাদেশের দেখা মেলে, তাহলে সিরিজ জয়ের আশা করাই যায়।
আগের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ওপেনার তানজিদ তামিমের টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলা ৫৮ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস, সাথে নাজমুল হোসেন শান্তর ৭১ বলে ফিফটি (৫১) এবং তাওহীদ হৃদয়ের প্রায় বল সমান (৩১ বলে ৩০ নটআউট) ইনিংস—এই তিনটির ওপর ভর করে ৮৭ বল আগে বাংলাদেশ জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছালেও আসল ভিত রচনা করেছেন মূলত দুই ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা আর শরিফুল ইসলাম।
নাহিদ রানা একাই কিউই ব্যাটিংয়ের অর্ধেকটা ভেঙে দেন। আর শরিফুলের ঝুলিতে জমা পড়ে ২ উইকেট। আর তাতেই ১৯৮ রানের মামুলি পুঁজিতে আটকে যায় কিউইরা। লক্ষ্য ২০০-এর নিচে থাকায় বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্বাভাবিক ব্যাটিং করা সহজ হয়ে যায়।
প্রচণ্ড গরমের মাঝেও প্রথম বল থেকে নিজের শেষ ডেলিভারি পর্যন্ত গড়ে ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করা, কখনো বাড়তি উচ্চতায় ওঠানো, ইয়র্কার ছোড়া—পাশাপাশি খুব ভালো জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বোলিং করে কিউই ব্যাটারদের বেকায়দায় ফেলে সফল হন নাহিদ রানা।
Advertisement
বাংলাদেশ আসলে সিরিজে ফিরেছে নাহিদ রানার বারুদে বোলিংয়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এ লম্বা, ছিপছিপে গড়নের প্রচণ্ড দ্রুৎগতির এই বোলারই এখন বাংলাদেশের আশার প্রদীপ। শেষ ম্যাচেও তার ওপর অনেকখানি নির্ভর করবে স্বাগতিকরা।
কিন্তু একটি প্রশ্নও উঠেছে। তা হলো, নাহিদ রানাকে এই গরমের মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর ৩ ম্যাচে খেলানোটা কি ঝুঁকি হয়ে যাবে না? আর শেরে বাংলার পিচ বোলারদের যতটুকু সহায়তা করেছে, চট্টগ্রামের পিচ তো কোনো সময়ই ফাস্ট বোলারদের সেভাবে সহায়তা করে না। সেটা মূলত ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি উইকেট। সেখানে প্রচণ্ড গরমে নাহিদ রানা কতটা কী করতে পারবেন—সে সংশয়ও থেকেই যায়।
এদিকে স্কোয়াডে আরেক দ্রুতগতির বোলার তানজিম হাসান সাকিবের অন্তর্ভুক্তি দেখে কারও কারও মনে জেগেছে প্রশ্ন—তবে কি বৃহস্পতিবারের শেষ ম্যাচে নাহিদ রানাকে বিশ্রাম দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে?
যে ফাস্ট বোলার আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের হাত থেকে ম্যাচ বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছেন, সেই ২৩ বছর বয়সী নাহিদ রানাকে বিশ্রাম দেওয়াটাই বা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে।
শেষ ম্যাচে টাইগারদের একাদশের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা- বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ঘুরেফিরে একটাই প্রশ্ন উঠছে—ব্যাটিং লাইনআপ অপরিবর্তিত থাকবে।
আগের ম্যাচের মতো তানজিদ তামিম আর সাইফ হাসানই ওপেন করবেন। তারপর সৌম্য সরকার খেলবেন তিন নম্বরে। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনের বদলে বাঁহাতি স্পিনার তানভীর হোসেনকে খেলানোর একটি চিন্তাভাবনাও আছে। আর পেসার কোটায় যথারীতি ৩ জনকেই রাখা হবে। তবে আগের ম্যাচ খেলা তাসকিন, নাহিদ রানা আর শরিফুলের জায়গায় কাউকে না কাউকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। সেটা কি তাসকিনকে, নাকি নাহিদ রানাকে? সেটাই দেখার।
এআরবি/এমএমআর