সাধারণত অসুস্থ হলে আমরা ওষুধের ওপরই ভরসা করি। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কিছু ক্ষেত্রে এই ওষুধই শরীরে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। হালকা চুলকানি থেকে শুরু করে জীবনঝুঁকিপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।
Advertisement
তাই ওষুধ নেওয়ার পর শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ওষুধে অ্যালার্জি মূলত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধকে শরীর ক্ষতিকর হিসেবে ধরে নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। অ্যান্টিবায়োটিক, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিসিজার ওষুধে এ ধরনের অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়।
তাই অ্যালার্জি অ্যাওয়ারনেস উইক উপলক্ষে জেনে নিন কোন লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত -
Advertisement
১. সাধারণ লক্ষণলক্ষণগুলো হালকা থেকে গুরুতর - দুটোই হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি। অনেক সময় চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া বা ঠোঁট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।
২. গুরুতর লক্ষণগুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট, গলা বন্ধ হয়ে আসা, মাথা ঘোরা বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এটি অ্যানাফাইল্যাক্সিস নামে পরিচিত একটি জরুরি অবস্থা, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই অ্যালার্জি নয়অনেক ওষুধের স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, যেমন বমি ভাব বা মাথা ঘোরা। কিন্তু অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সাধারণত ত্বক বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায় এবং তা দ্রুত বাড়তে পারে।
ওষুধ নেওয়ার পর যদি নতুন কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিশেষ করে যদি আগে কোনো ওষুধে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তাহলে নতুন ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসককে তা জানানো জরুরি।
Advertisement
নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস এই ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বা পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়াই ভালো। সচেতনতা এখানে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অ্যালার্জি অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজি, এনএইচএস
এএমপি/এএসএম