লাইফস্টাইল

বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ কাজ করে? কারণ জানুন

কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম নিলেই মনে হয় - সময় নষ্ট করছি, আরও কিছু করা উচিত ছিল। অনেকেই ছুটি বা অবসর সময়েও পুরোপুরি আরাম করতে পারেন না। মাথার ভেতর যেন কাজের তালিকা ঘুরতেই থাকে।

Advertisement

এই অনুভূতিকে আমরা অনেক সময় স্বাভাবিক মনে করি, কিন্তু এটি ধীরে ধীরে মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।

বিশ্রাম নেওয়ার সময় অপরাধবোধ কাজ করা কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং এটি আমাদের চিন্তার ধরণ ও সামাজিক অভ্যাসের ফল।

কেন বিশ্রামে অপরাধবোধ হয়?

১. সবসময় ব্যস্ত থাকার সংস্কৃতিবর্তমান সময়ে ব্যস্ত থাকা যেন সফলতার একটি মাপকাঠি হয়ে গেছে। ফলে বিশ্রাম নিলে অনেকেই মনে করেন, তারা পিছিয়ে পড়ছেন।

Advertisement

২. নিজের মূল্যকে কাজের সঙ্গে যুক্ত করাঅনেকে নিজের মূল্য বা পরিচয়কে কাজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কাজ না করলে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে।

৩. পারফেকশনিজমসবকিছু নিখুঁতভাবে করার চাপ থাকলে বিশ্রাম নেওয়াকেও অনেক সময় অপচয় মনে হয়। মনে হয়, আরও ভালো কিছু করা যেত।

৪. অসমাপ্ত কাজের চাপমাথায় যদি অনেক কাজ জমে থাকে, তাহলে বিশ্রামের সময়ও মন পুরোপুরি শান্ত থাকে না। ফলে অপরাধবোধ তৈরি হয়।

৫. শৈশব বা সামাজিক শেখানো ধারণাঅনেকেই ছোটবেলা থেকে শুনে বড় হয়েছেন - অলসতা খারাপ, সময় নষ্ট করা যাবে না। এই ধারণাগুলো বড় হয়েও আচরণে প্রভাব ফেলে।

Advertisement

এর প্রভাব কী?

>> মানসিক ক্লান্তি বাড়ে>> ঘুমের মান খারাপ হয়>> কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে>> দীর্ঘমেয়াদে বার্নআউটের ঝুঁকি বাড়ে

কীভাবে এই অভ্যাস বদলাবেন?

১. বিশ্রামকে প্রয়োজন হিসেবে দেখুনবিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি শরীর ও মনের প্রয়োজন - এই ধারণাটি গ্রহণ করুন।

২. ছোট সময় দিয়ে শুরু করুনএকবারে দীর্ঘ সময় না নিয়ে অল্প সময়ের বিরতি নিন এবং সেটিকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

৩. কাজ ও বিশ্রামের সময় আলাদা করুনদিনের একটি নির্দিষ্ট সময় শুধু বিশ্রামের জন্য রাখুন। এতে অপরাধবোধ কমে।

৪. নিজের সঙ্গে কথা বলার ধরন বদলানআমি সময় নষ্ট করছি – একথা না ভেবে ভাবুন - আমি নিজেকে রিচার্জ করছি।

বিশ্রাম নেওয়া মানে অলসতা নয়, বরং এটি নিজেকে ঠিক রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি বিশ্রামের সময়ও অপরাধবোধ কাজ করে, তাহলে সেটি একটি সংকেত যে আপনার শরীর ও মন আরও যত্ন চায়।

নিজেকে সময় দেওয়া কোনো ভুল নয়, বরং সেটিই দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে আরও সক্ষম করে তোলে।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ

এএমপি/এএসএম