পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে আবারও বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এটি এক দশকেরও বেশি সময়ের ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বিজেপির কাছে এটি বাংলার মসনদ দখলের চূড়ান্ত লড়াই।
Advertisement
২০১১ সালে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার সাফল্যের মুখ দেখেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মমতা। উপনির্বাচনের পর বিধানসভায় তাদের আসন সংখ্যা পৌঁছায় ২১৫-তে। তৃণমূলের লক্ষ্য এখন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে চতুর্থবার নবান্নে ফেরা।
বিজেপি: ক্ষমতা দখলের মরিয়া প্রচেষ্টা২০২১ সালে ৭৭ আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসা বিজেপির লড়াই এবার আরও কঠিন। উপনির্বাচন এবং বিধায়কদের দলবদলের কারণে বর্তমানে তাদের আসন সংখ্যা ৭৫-এ দাঁড়িয়েছে। দলের ভাঙন রোধ করে এবং বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করে এবার তৃণমূলকে উৎখাত করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।
বাম-কংগ্রেসের বড় চ্যালেঞ্জ২০২১-এর ভোটে বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে এই প্রথম বিধানসভায় কোনো বাম বা কংগ্রেস প্রতিনিধি ছিল না। ফলে এবারের নির্বাচনে বাম এবং কংগ্রেসের জন্য প্রধান লক্ষ্য হবে নিজেদের হারানো জনভিত্তি ফিরে পাওয়া এবং বিধানসভায় ফের জায়গা করে নেওয়া।
Advertisement
গত নির্বাচনের পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে ‘দলবদল’ একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছু বিজেপি বিধায়কের তৃণমূলে যোগদান এবং বিভিন্ন নেতার দল পরিবর্তন ভোটারদের মনেও প্রভাব ফেলছে। এই অবস্থায় আসন্ন নির্বাচন হবে ভোটারদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা—তারা কি স্থিতাবস্থায় আস্থা রাখবেন নাকি পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন?
সূত্র: বিবিসি বাংলা, উইকিপিডিয়াকেএএ/