দেশে গাড়ি তৈরিতে এবার সরাসরি বিনিয়োগ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি করপোরেশন। তারা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানায় কৌশলগত বিনিয়োগ করছে। এরই অংশ হিসেবে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নিচ্ছে মিতসুবিশি করপোরেশন। এ উপলক্ষে একটি চুক্তি সই হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
Advertisement
এতদিন র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিজেদের কারখানায় জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন থেকে গাড়ি এনে সংযোজন করতো। এখন র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হলো মিতসুবিশি করপোরেশন। দেশের চার চাকার পরিবহন খাতে এটি এখন পর্যন্ত জাপানের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই। এই অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং দেশীয় গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দেওয়া। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে এ উপলক্ষে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই চুক্তি বর্তমান সরকারের অধীনে প্রথম বড় ধরনের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে। মিতসুবিশি করপোরেশনর আগমন অন্যান্য বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত করবে। র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব দেশের অটোমোবাইল শিল্পে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
Advertisement
মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিভিশন সিওও হিরোয়ুকি এগামি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমোটিভ খাতে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রেইলের সঙ্গে অংশীদারত্ব স্থাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এই যৌথ উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিতে সবরকম চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
র্যানকন হোল্ডিংস লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, ‘মিতসুবিশি করপোরেশনের বৈশ্বিক দক্ষতা এবং র্যানকনের স্থানীয় বাজার সম্পর্কে গভীর ধারণা – বাংলাদেশের অটোমোটিভ শিল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের অটোমোটিভ খাতে এমন কৌশলগত যৌথ উদ্যোগ এটিই প্রথম, যা বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দেশের ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের যানবাহন উৎপাদন ও অ্যাসেম্বলি করে আসছে। সরকারের স্থানীয় উৎপাদন নীতিমালার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি দেশে মিতসুবিশির জনপ্রিয় এক্সপ্যান্ডার মডেলের স্থানীয় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু করে। বর্তমানে এটি দেশের সর্বাধিক বিক্রিত ফ্যামিলি এসইউভি। এই উদ্যোগকে দেশের অটোমোটিভ শিল্পের জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিতসুবিশি করপোরেশনের এ কৌশলগত বিনিয়োগ ডিস্ট্রিবিউশন, সেলস এবং মার্কেটিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সাপ্লাই চেইনের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও বাজার প্রবেশাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য যানবাহনে অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে, বিক্রয়-পরবর্তী সেবা আরও উন্নত হবে, সাশ্রয়ী মূল্যে স্পেয়ার পার্টস পাওয়া যাবে এবং দেশব্যাপী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, জাপানি প্রযুক্তি ও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজার সম্পর্কে জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে একটি দক্ষ স্থানীয় জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং ভ্যাট ও করের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
Advertisement
ইএইচটি/এমএএইচ/