ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’-এ অনুষ্ঠিত রাতের সমাবেশে একাধিক ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রদর্শন করা হয়েছে। শাহেদ ড্রোনের এই বিশাল সমারোহকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে ইরান।
Advertisement
ফার্স বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদর্শিত ড্রোনগুলো ‘শাহেদ-১৩৬’ মডেলের, যা ইরানের তৈরি একটি বহুল ব্যবহৃত আক্রমণাত্মক ড্রোন। এটি কম খরচে দীর্ঘ দূরত্বে হামলা চালাতে সক্ষম হওয়ায় আধুনিক যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এই একই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে একটি মার্কিন বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (অকাস) বিমান আঘাত করা হয়েছিল। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
ড্রোন সমাবেশের প্রদর্শনীতে স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় বাসিন্দারা ড্রোনের গায়ে নিজেদের স্বাক্ষর দেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থণা করার ছবি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। তারা এটিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
Advertisement
বিশ্লেষকদের মতে, শাহীদ সিরিজের ড্রোনগুলো তুলনামূলক কম খরচে তৈরি হলেও উচ্চমূল্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে যা আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়। ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন দফায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে।
পরে ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত স্থগিত করে। ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথবাহিনীর হামলায় মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। তিনি বলেন, এখনো চারটি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
Advertisement
কেএম