বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী ও নাট্য কর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অব.) হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
Advertisement
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
Advertisement
পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়া তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে, গ্রেফতারের পর গত ২২ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাজির করা হয়। এ সময় হাফিজুর রহমানের সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২১ এপ্রিল রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পিবিআইয়ের একটি দল সদস্য অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মামলায় এটিই প্রথম কোনো গ্রেফতার, যা নতুন করে আলোচনায় এনেছে তনু হত্যাকাণ্ডকে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন—অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চান। আদালতের নির্দেশনার পর তদন্তে গতি আসে এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
Advertisement
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলে মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে/এমএস