অর্থনীতি

ইন্টারনেটকে জরুরি সেবা চিহ্নিত করে কর অব্যাহতির দাবি

ইন্টারনেট সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে চিহ্নিত করে এ খাতে আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার দাবি তুলেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।

Advertisement

পাশাপাশি সংগঠনটি অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল আমদানিতে সর্বমোট করভার ৬৩ দশমিক ৪০ শতাংশের অব্যাহতি চেয়েছে। অন্যদিকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও ইন্টারনেট সেবাকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে শনিবার (২৫ এপ্রিল) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠন দুটি এসব দাবি জানায়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

এসময় ইন্টারনেট মডেম, রাউটার, সার্ভারসহ একাধিক পণ্যের ওপর করভার ১৫ শতাংশ থেকে ০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয় আইএসপিএবি। সংগঠনটি জানায়, ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটরদের উচ্চ ট্রান্সমিশন খরচ এবং জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

Advertisement

ইন্টারনেট সেবাকে সাশ্রয়ী করার পথে ভ্যাট প্রধান বাধা উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট থাকলেও অফিস ভাড়া এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ওপর আইএসপিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, যার কোনো রেয়াত পাওয়া যায় না। এতে ইন্টারনেটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ইন্টারনেটের সব পর্যায়ে ভ্যাট পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

বিসিএস জানায়, আগে একটি মানসম্মত কম্পিউটার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, যা ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ শুল্কের কারণে এখন ৬৫ হাজার টাকার নিচে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের ২৭ লাখ বেকার তরুণকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার বড় সুযোগ থাকলেও কম্পিউটারের উচ্চমূল্য এই সম্ভাবনার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনটি ল্যাপটপের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করে শুল্ক পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে বলে, বর্তমান বাজারে ল্যাপটপ আমদানিতে ভ্যাটসহ প্রায় সাড়ে ২০ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে। ল্যাপটপ কোনো বিলাস দ্রব্য নয়।

হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং পণ্যের মোট শুল্ক ও কর ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করে বিসিএস জানায়, কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যেমন- মনিটর, এসএসডি ও মেমোরি কার্ডের ওপর বর্তমানে উচ্চহারে শুল্ক ও কর আরোপ করা আছে। মনিটরের ওপর প্রায় ৪০ শতাংশ এবং মেমোরি কার্ডের ওপর ৩৭ শতাংশ চার্জ থাকায় বাজারে নিম্নমানের ও নকল পণ্যের সয়লাব ঘটেছে। বিশেষ করে এসএসডি এবং মেমোরি কার্ডের মতো সংবেদনশীল পণ্যের উচ্চ শুল্কের কারণে ব্যবহারকারীরা তথ্য হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

Advertisement

এসএম/একিউএফ