যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক শনিবার বিকেলে পরিদর্শন করেছেন দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর সাবেক এই তারকা ফুটবলারের মোহামেডান ক্লাবে যাওয়া হলেও আবাহনীতে গেলেন প্রথমবার। যদিও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তারই ঘর। ওই ক্লাবের স্থায়ী সদস্য তিনি। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি আর কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের নন, দেশের পুরো ক্রীড়ারই অভিভাবক।
Advertisement
আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না। বরং ক্লাবগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।’
আবাহনী ক্লাবের ম্যানেজমেন্টকে নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য সব খেলায় ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমি চাই, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকুক।’
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন আবাহনীর মাঠের চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। মোহামেডানের কর্মকর্তার আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিত থাকাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্পোর্টসম্যানশিপের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
আবাহনীকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রা টিকে থাকবে। এ কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, ‘খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতিমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের কর্ণধার অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আবাহনী ক্লাবে গেলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ক্লাবটির ফুটবলাররা।
আরআই/আইএইচএস/