তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বর্তমানে বাংলাদেশে আছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। এরই মধ্যে হয়ে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে টাইগাররা। যেখানে নিয়মিত অধিনায়কসহ একাধিক তারকা ক্রিকেটারকে পায়নি কিউইরা।
Advertisement
সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজেও নেই অনেক নিয়মিত ক্রিকেটার। মূলত আইপিএল ও পিএসএলে খেলার কারণে ওইসব ক্রিকেটারদের এ সিরিজে পাচ্ছে না নিউজিল্যান্ড। তবে এই পরিস্থিতিকে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক নয়, বরং প্রতিভার গভীরতা বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ স্পিনার ইশ সোধি।
সাদা বলের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বড় তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইশ সোধি জানান, বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলছেন। শনিবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘লকি ফার্গুসনের সাথে যখন ফ্লাইটে আসছিলাম, তখন খবরে দেখলাম প্রায় ৪০-৫০ জন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও খেলছে। আমাদের ঘরোয়া মৌসুম মাসখানেক আগেই শেষ হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এটি দারুণ ব্যাপার যে এত বেশি সংখ্যক ক্রিকেটার বিশ্বজুড়ে খেলছেন।’
আইপিএল চলাকালীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এবং নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া নিয়ে সোধি আরও যোগ করেন, ‘আইপিএল উইন্ডোতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এবং যারা আগে এসব কন্ডিশনে খেলেনি বা অন্য লিগে সুযোগ পায়নি, তাদের জন্য এটি অসাধারণ সুযোগ। কিউই দলের বড় ইতিবাচক দিক হলো- আমাদের বড় তারকারা আইপিএল বা পিএসএল-এ থাকলেও আমরা সবসময় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলি। ভারতের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের উদাহরণ দিলেই বোঝা যায়, সেখানেও আমাদের অনেক ক্রিকেটার ছিল না, তবুও আমরা দারুণ খেলে সিরিজ জিতেছি। যতক্ষণ আমরা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করতে পারছি, ততক্ষণ গভীরতা বাড়াতে কোনো সমস্যা নেই।’
Advertisement
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন ইশ সোধি। আইপিএল-এ খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরে অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। এরপরও দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে খেলার অনুপ্রেরণা কোথায় পান? এমন প্রশ্নে সোধি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলার ক্ষেত্রে আমি কখনোই অনুপ্রেরণার অভাব বোধ করিনি। আমার ক্যারিয়ারে আমি টেস্ট থেকে টি-টোয়েন্টি, আবার টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছি- এই চ্যালেঞ্জগুলোই আমাকে সবসময় ফোকাসড রেখেছে।’
নিজের বয়স এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই স্পিনার বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি মজা করে বলেন, ‘কখনও কখনও মনে হয় আমি অনেকদিন ধরে আছি, কিন্তু আমার বয়স এখন মাত্র ৩৩। আমি তো আর ৩৮ বছর বয়সের কেউ নই যে ভাবতে বসব এখন কী হচ্ছে না হচ্ছে! আমার মোটিভেশন এখনও অনেক শক্তিশালী। বর্তমানে আমি আমার অভিজ্ঞতাগুলো তরুণ স্পিনারদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে তাদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারি।’
এসকেডি/আইএইচএস/
Advertisement