আন্তর্জাতিক

ইরান আসলে কে চালাচ্ছেন জানে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পর ইরান আসলে কে চালাচ্ছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানে না তার প্রশাসন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন তিনি।

Advertisement

ট্রাম্প বলেন, আমরা জানি না ইরানের নেতা কে, কারণ মনে রাখবেন- রেজিম পরিবর্তন হয়।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষেরই চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বৈঠকে বসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই আলোচনা বাতিল করা হয়।

এর আগে ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রথম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেখান থেকে কোনো চুক্তি ছাড়াই তারা ফিরে যায়।

Advertisement

যুদ্ধ শুরুর আগে ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মার্কিন সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিকের হামলায় তিনি নিহত হন। এরপর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। তবে তিনিও ওই হামলায় আহত হন বলে দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এতে ধারণা তৈরি হয়েছে যে তিনি হয়তো ‘অক্ষম’ হয়ে পড়েছেন বা মৃত্যুবরণ করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিলেও তাদেরকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে মনে করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তৎকালীন কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হন। পরে তাকে প্রতিস্থাপন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদিকে তুলনামূলকভাবে আরও কট্টরপন্থি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার ক্ষমতায় আসা ইরানের অভ্যন্তরে সেই ঘরানার শক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

Advertisement

এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত করবে। তবে কতদিন পর্যন্ত তা চলবে সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি ইরান সরকারের গভীরভাবে বিভক্ত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

সূত্র: ওয়াশিংটন এক্সামিনার

এসএএইচ