গত কয়েক মৌসুম ধরেই অমিত হাসানের নাম শোনা যাচ্ছিল। কবে টেস্ট দলে ডাক পাবেন- তাকে ঘিরে এমন কৌতূহল ছিল ক্রিকেটাঙ্গনে। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো এই ডানহাতি ব্যাটারের। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ডাক পেয়েছেন অমিত।
Advertisement
টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার পরই জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে নিজের অভিব্যক্তির কথা জানালেন তিনি। বললেন স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তবে ব্যাট হাতে যেমন লম্বা ইনিংস খেলেন তেমনি টেস্ট কয়ারিয়ারেও লম্বা রেসের ঘোড়া হতে চান অমিত।
২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় অমিতের। এরপর থেকে ৪৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৪৯ গড়ে ৩৬৫০ রান করেছেন তিনি। এমন পারফরম্যান্স করেও জাতীয় দলের দরজা যেন কিছুতেই খুলছিল না। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হওয়ায় অমিত উচ্ছ্বসিত।
প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে আমিত বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। প্রত্যেকটা প্লেয়ারেরই তো এটা একটা স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন পূরণ হইছে আর বাকিটা সময় লম্বা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি আছে।’
Advertisement
এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে রীতিমতো রান বন্যা বইয়ে দিয়েছেন অমিত। ৭ ম্যাচে ৭৮.৫০ গড়ে করেছেন আসরের সর্বোচ্চ ৭৮৫ রান। ওই আসরে ১ সেঞ্চুরি, ৫ ফিফটির সঙ্গে করেন ১টি ডাবল সেঞ্চুরিও। গত আসরেও ৪৪০ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার, এই আসরেও করেন একটি ডাবল সেঞ্চুরি। তখন তাকে নিয়ে আলোচনা হলেও নির্বাচকরা মনে করেছিলেন, তিনি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নন।
সে প্রসঙ্গ টেনে এখন তার প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে আমিত বলেন, ‘শেষ এক দেড় বছরে এইচপি এর দুইটা সিরিজ খেলছি। অভিজ্ঞতা হয়েছে। এখন আলহামদুলিল্লাহ সুযোগ পেয়ে ভালো লাগতেছে।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডে ১৬২ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ভালো ফর্মে থেকেই জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা তার জন্য কতটা ইতিবাচক- এ প্রশ্নে আমিত বলেন, ‘না আমি সবসময় বলে থাকি যে আমি বর্তমানে থাকতে পছন্দ করি। লাস্ট যেটা খেললাম বিসিএল ওটা ভালো গেছে আলহামদুলিল্লাহ। এখন যেটা আসবে সেটা নিয়ে চিন্তা করব।’
টেস্ট ক্রিকেটে সফল হওয়ার জন্য মানসিকতা ও ধৈর্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও অমিতের এই গুণের প্রশংসা করেছেন।
Advertisement
নিজের ব্যাটিং প্রসেস সম্পর্কে আমিত বলেন, ‘প্রসেসটা আমার সিম্পল থাকে সবসময়। আমি বল বাই বল খেলার চেষ্টা করি।’
দীর্ঘ ইনিংস খেলার জন্য কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করেন কি না- এ প্রশ্নে তিনি জানান, ‘না অত লম্বা চিন্তা ভাবনা..., মানে আছে না যে, ১০০ করতে হবে ১৫০ করতে হবে এরকম লম্বা চিন্তা ভাবনা করি না। আমি নরমালি বল বাই বল খেলার চেষ্টা করি।’
নিজের ক্রিকেট যাত্রা মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমিত বলেন, ‘আমার তো ফার্স্ট ক্লাসে ডেব্যু হইছে ২০১৯ এ। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ পুরাটা সময় ভালো গেছে। একটা সময় ২২ এ কি ২১ সালের দিকে একটু খারাপ গেছে। ১৯ থেকে ২৪ পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ সবমিলিয়ে ভালো গেছে। চেষ্টা করছি ধারাবাহিক থাকার। আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে একটা সুযোগ আসছে।’
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের সময় সতীর্থ ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা করেন অমিত। তিনি বলেন, ‘নন স্ট্রাইকে যে থাকে তার সাথে কথা বলি যে কি করলে ভালো হয় দুজন আলোচনা করি। তার পাশাপাশি কোচ আছে তার সাথেও আলোচনা করি যে কিভাবে খেললে ভালো হবে এই উইকেটে আর কিভাবে করলে রান হবে। চেষ্টা করি বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি।’
ব্যাটিং দক্ষতা উন্নয়নে কোচ রাজিন সালেহর সঙ্গে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন আমিত। তিনি বলেন, ‘স্যারের সাথে স্কিল নিয়ে এইচপি থেকে কাজ হয়েছে। তার পাশাপাশি লম্বা সময় আমি সিলেট ডিভিশনের হয়েও খেলি, ওখানেও স্কিল নিয়ে কাজ হয়। স্যারের সঙ্গে আমার যোগাযোগটা ভালো।'
এসকেডি/আইএইচএস/