শুল্ক ও কর কর্মকর্তাদের অনিয়ম বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমইএ) সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন।
Advertisement
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ হস্তক্ষেপ চান।
এই ব্যবসায়ী নেতা এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের উদ্দেশে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস ও ইনকাম ট্যাক্স ইন্সপেক্টরদের অত্যাচার বন্ধ করেন। আমরা কোনো জিনিস কমানোর জন্য বলবো না, যা চাইবেন তাই দেবো। ঘুস বন্ধ করেন। কোনোদিন কোনোকিছু (কর হার) কমানোর জন্য বলবো না। একদম দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কেউ বলবে না কমান।’
এসময় এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘আপনারা ঘুস দেবেন না।’ জবাবে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার তো তাহলে গুপ্ত খাল দিয়ে, গুপ্ত হয়ে যেতে হবে।’
Advertisement
আলোচনা সভায় বিটিটিএলএমইএ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে সুতা ও তুলার ওপর উৎসে আয়কর কর্তন হার হ্রাস করা এবং কটন ওয়েস্ট আমদানিতে শুল্ক হার অব্যাহতি।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর নিরীক্ষার নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি বড় করদাতাদের ক্ষেত্রে মূসক ও আয়কর বিভাগের যৌথ নিরীক্ষা চালু করা হয়েছে, যাতে করদাতাদের একাধিকবার নিরীক্ষার সম্মুখীন হতে না হয়।
আবদুর রহমান খান আরও বলেন, দেশে মূসকের আওতা এখনো খুবই সীমিত, বিশেষ করে খুচরা পর্যায়ে। যেখানে কোটি কোটি ব্যবসায়ী রয়েছেন, সেখানে মূসক নিবন্ধনের সংখ্যা আট লাখেরও কম, যা অগ্রহণযোগ্য। তাই মূসক নিবন্ধন সহজ করা এবং নতুন করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া সরল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন একটি ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ বার্ষিক মূসক দিলেই হবে, নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হবে না। এতে নতুন ব্যবসায়ীদের মূসক ব্যবস্থায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
এসএম/একিউএফ
Advertisement