দেশজুড়ে

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ এএসআইয়ে বিরুদ্ধে

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকায় মো. দেলোয়ার হোসেন নামে ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কোনাবাড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এসময় দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

অভিযুক্ত হলেন কোনাবাড়ি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আজিজুল হক।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি প্রেস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিনের মতো ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রুবেল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে একটি সিএনজি থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ আরেকটি সিএনজি এসে তার পেছনে থামে এবং তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

পরে তাকে বাইমাইল হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তল্লাশির আগে চড় মারা হয়। একপর্যায়ে তার সামনে একটি পলিথিনে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। এরপর তার কাছে থাকা নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়।

Advertisement

অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিএনজিতে সিফাত নামের আরও এক যুবক ছিলেন। তার মোবাইলে অনলাইনে জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপস থাকার অভিযোগে তাকেও আটক করা হয়। পরে সিফাতের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হলে তিনি তার ভাইকে ফোন করেন। পরে সিফাতের ভাই তার মোবাইলে ২ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান।

পরবর্তীতে দেলোয়ারকে সিএনজি চালকের সঙ্গে পাঠিয়ে বাইমাইল মসজিদ মার্কেট এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) অ্যাকাউন্ট থেকে আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য তার ছবি তুলে রাখেন এবং কাউকে ঘটনা জানালে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হবে বলে হুমকি দেন। পরে তাকে আবার আগের স্থানে ৪০০ টাকা ফেরত দিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর দেলোয়ার বিভিন্ন পরিচিতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৮ জন পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে এবং জোরপূর্বক ৫ হাজার টাকা ফেরত দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

এদিকে ঘটনার বিষয়ে সিফাত নামের ওই যুবক মোবাইল ফোনে সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, তাকে ভয় দেখানো হয়েছে, তাই বেশি কিছু বলতে পারবেন না।

তবে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, ঘটনাটি গত রাতে শুনেছি। মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. আমিনুল ইসলাম/এনএইচআর/এমএস