দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)। মানববন্ধন থেকে খুন-ধর্ষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সংগঠনটি।
Advertisement
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। নির্যাতিতদের জন্য দ্রুত আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা, সংসদে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং খুন-গুম-ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় সংগঠক পারভেজ হোসাইন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী খুন, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যা মহামারির মতো রূপ নিয়েছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
Advertisement
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যত নির্যাতিত মা-বোন ও নাগরিক রয়েছেন, তারা যেন প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা পান এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের যথাযথ আইনি প্রতিকার নিশ্চিত হয়। এজন্য প্রশাসনকে অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
পারভেজ হোসাইন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে একটি সংসদ গঠিত হয়েছে, যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আছেন জনগণের অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তার দাবি তুলে ধরার জন্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সংসদে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একটি বড় অংশ অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও তোষামোদে নষ্ট করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে জনপ্রতিনিধিরা সংসদে গেছেন। তাই তাদের উচিত শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের সময় যথাযথভাবে ব্যবহার করা। সেখানে দেশের জনগণের দাবি, কল্যাণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাওয়া উচিত, দলীয় তোষামোদ বা অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা নয়।
রাষ্ট্রীয় সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই আপনারা সংসদে এসেছেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের প্রত্যাশা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা জাতীয় সংসদে জনগণের অধিকার ও প্রয়োজনীয় দাবিগুলোর প্রতিফলন দেখতে চাই, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা নয়।
Advertisement
কেন্দ্রীয় সংগঠক তুহিন ফারাজী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমরা গুম, খুন, ধর্ষণসহ নানা নিপীড়ন দেখেছি, মানুষের মুখ বন্ধ ছিল। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষের প্রাণ যাওয়ার পরও এখন দেখা যাচ্ছে, মানুষ কথা বলার অধিকার পাচ্ছে না, কথা বললেই ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, এলপিজি কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই, এমন একটি কার্ড দিন যার মাধ্যমে আমরা ধর্ষণ, গুম ও খুনের বিচার করতে পারি এবং যারা এসব অপরাধ করছে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে পারি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা উঠে গেছে। তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু সংবিধানের কথা বলছেন। কিন্তু সংবিধানের দোহাই দিয়ে গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো আড়াল করা যাচ্ছে না।
তুহিন ফারাজী বলেন, মানুষ এখন নিরাপত্তা চায়, শান্তিতে বাঁচতে চায়। এসডিএফ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এফএআর/এমএএইচ