একুশে বইমেলা

চোখের বালি: প্রেম ও ঈর্ষার জটিল আখ্যান

তানজিলা দীবা

Advertisement

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‌‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক উপন্যাস। এতে মানুষের আবেগ, প্রেম, ঈর্ষা, বন্ধুত্ব ও সমাজের বিধিনিষেধকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘বিনোদিনী’ একজন বুদ্ধিমতী ও আকর্ষণীয় বিধবা নারী। যার জীবনে সমাজের কঠোর নিয়ম তাকে বঞ্চিত করে রেখেছে। তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে মহেন্দ্র, আশালতা এবং বিহারী। বন্ধুত্ব, প্রেম ও ঈর্ষার জটিল সম্পর্কের ভেতর দিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।

মহেন্দ্র ও আশালতার সুখী দাম্পত্য জীবনে বিনোদিনীর আগমন যেন অদৃশ্য অস্থিরতা তৈরি করে। আশালতার সরলতা ও বিনোদিনীর বুদ্ধিমত্তার মধ্যে তৈরি হয় সূক্ষ্ম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এ সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই উপন্যাসের মূল দ্বন্দ্বের জন্ম। রবীন্দ্রনাথ এখানে শুধু প্রেমের গল্প বলেননি; তিনি তুলে ধরেছেন সেই সময়কার সমাজে বিধবা নারীর একাকিত্ব, বঞ্চনা ও দমিয়ে রাখা আকাঙ্ক্ষা। বিনোদিনীর চরিত্রে যেমন বুদ্ধি ও আত্মসম্মান আছে; তেমনই আছে ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা। ফলে চরিত্রটি খুবই বাস্তব ও মানবিক মনে হয়।

আরও পড়ুনএখানে কয়েকটি জীবন: যে গল্প হৃদয়ে গাঁথা 

ভাষার সৌন্দর্য, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং চরিত্রগুলোর গভীরতা উপন্যাসকে অনন্য করে তুলেছে। মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা ঈর্ষা, আকর্ষণ এবং ভালোবাসার জটিল রূপ এখানে খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে। ‘চোখের বালি’ শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়; এটি মানুষের মনের গভীর দ্বন্দ্ব, সমাজের নিয়ম এবং ব্যক্তিগত আবেগের সংঘর্ষের অসাধারণ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।

Advertisement

যারা গভীর দর্শন থেকে উপন্যাসটি পড়বেন এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন; তাদের কাছে ‘বিনোদিনী’ চরিত্রটিকে কখনোই অতিরিক্ত কিছু মনে হবে না। শুধু তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার ওপর ক্ষোভের জন্ম হবে। যে ক্ষোভের কারণেই একজন তরুণী বিধবা নারীর মতিভ্রম দেখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আরও পড়ুনপ্রিয় ১৫ গল্প: সমকালের আয়না 

বইয়ের নাম: চোখের বালিলেখক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধরন: উপন্যাসপ্রকাশক: দূরবীণ মূল্য: ২৬০ টাকা।

এসইউ

Advertisement