আমেরিকা ব্রিটিশ কলোনি থেকে স্বাধীন হয় ১৭৭৬ সালে। কীভাবে ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া করারোপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেই স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়, সংগ্রাম কেমন ছিল, কীভাবে হলো অর্থনৈতিক মুক্তি- সে গল্প শোনালেন ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি ডিরেক্টর (পাবলিক এনগেজমেন্ট) রিচার্ড ব্রুনার।
Advertisement
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকার এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টারে ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স’ নামে একটি মিউজিয়াম উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন করেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
উদ্বোধন শেষে চিত্রকর্মসহ জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান এবং ২৫০ বছরের ইতিহাস-সংগ্রাম, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন পাবলিক এনগেজমেন্ট কর্মকর্তা রিচার্ড ব্রুনার।
হোয়াইট হাউজের একটি উদ্যোগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এবং প্রেগারইউর সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই জাদুঘরে আমেরিকার স্বাধীনতাকে রূপ দেওয়া ধারণা, ব্যক্তিত্ব ও ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে সাবলীলভাবে।
Advertisement
আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটা প্রদর্শিত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রদর্শনীটির পরিসর বাড়াতে দূতাবাস বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটের আরও পাঁচটি আমেরিকান কর্নারে এর ছোট সংস্করণ স্থাপন করবে।
আমেরিকার গল্প শোনাচ্ছেন রিচার্ড ব্রুনার
রিচার্ড ব্রুনার দেশটির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম, স্বাধীনতাসহ নানা সাহসী গল্প শোনান দর্শনার্থীদের। জর্জ ওয়াশিংটনের স্ত্রী মার্থা ওয়াশিংটনসহ আমেরিকা গঠনে বিপ্লবী নারীদের অবদান তুলে ধরেন রিচার্ড। মিউজিয়ামে প্যারিস চুক্তি (১৭৮৩) প্রদর্শন করা হয়। এ চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকার স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়।
ব্রুনার উপস্থাপন করেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, যা ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসে গৃহীত হয়। তার ভাষায় এটা ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল। প্রধানত থমাস জেফারসন রচিত এ ঘোষণাপত্র শুধু গ্রেট ব্রিটেন থেকে আমেরিকার স্বাধীনতাই ঘোষণা করেনি, বরং আমেরিকানদের প্রাকৃতিক অধিকারকে প্রজাতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে জানান তিন।
Advertisement
নান্দনিক উপস্থাপনায় রিচার্ড ব্রুনার বলেন, জেফারসন দক্ষতার সঙ্গে এতে লিখেছিলেন, আমরা এই সত্যগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ বলে মেনে নিই যে, সব মানুষ সমানভাবে সৃষ্ট এবং তাদের স্রষ্টা তাদের কিছু অবিচ্ছেদ্য অধিকার দিয়েছেন। যার মধ্যে জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার অন্তর্ভুক্ত।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
যখন ব্রিটিশ বাহিনী উপনিবেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় এবং বোস্টন ও নিউইয়র্কে বড় সেনা মোতায়েন করে, তখন অনেক উপনিবেশবাসী বিশ্বাস করতে শুরু করে যে স্বাধীনতাই মুক্তির একমাত্র পথ। এই ঘোষণাপত্র বিদেশি সমর্থনও বাড়ায়। বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে, যারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এটি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রাম, কোনো অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ নয়।
এছাড়া ১৭৭৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর সংগঠিত ব্যাটল অব ট্রেন্টের বিষয়েও উপস্থাপন করা হয়। ব্যাটলস অব লেক্সিংটন অ্যান্ড কনকর্ড, পল রিভারস রাইড, প্যাট্রিক হেনরিস ‘গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ, স্পিস, দ্যা হিস্ট্রি অব প্যারিস, সিজ অব ইয়র্কটাউন, র্যাটিফিকেশন অব দ্য কনস্টিটিউশন ইত্যাদি ঐতিহাসিক দলিল প্রদর্শন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় দেশগুলোর একটি যা প্রতিফলিত হয়েছে রিচার্ড ব্রুনারের দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনায়।
এমওএস/এএসএ