ধর্ম

ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের সময় ভুল হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন: ইমামের পেছনে জামাতে নামাজ আদায়ের সময় যদি কোনো ভুল হয়, তাহলে করণীয় কী?

Advertisement

উত্তর: ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করার সময় মুক্তাদির ভুল হলে দেখতে হবে ভুলটির ধরণ কেমন। নামাজে ভুল তিন প্রকারের হতে পারে:

এক. কোনো ফরজ ছুটে গেছে। দুই. কোনো ওয়াজিব ছুটে গেছে। তিন. কোনো সুন্নত ছুটে গেছে।

পুরো নামাজের মধ্যে এই তিন ধরনের কাজই আছে, ফরজ, ওয়াজিব অথবা সুন্নত, তাই যে কোনো ভুল এই তিন প্রকারের মধ্যেই থাকবে।

একা নামাজ আদায়ের সময় ফরজ ছুটে গেলে নামাজই বাতিল হয়ে যায়। জামাতে নামাজের সময়ও তাই। কোনো ফরজ যদি ছুটে যায়, তাহলে মুক্তাদির নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। যেমন, কেউ যদি কোনো রাকাতে রুকু না করে, তাহলে তার নামাজ বাতিল হয়ে যা হবে। যদি তাকবিরে তাহরিমা না বলে, তাহলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। কারণ তাকবিরে তাহরিমা ও রুকু নামাজের ফরজ আমল।

Advertisement

একা নামাজ আদায়ের সময় ওয়াজিব ছুটে গেলে নামাজ শেষে সাহু সিজদা দিলে নামাজ হয়ে যায়। ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের সময় ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয় না, নামাজ হয়ে যায়। কারণ ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের সময় ইমামের আনুগত্য করা জরুরি। ইমামের আনুগত্য ভেঙে সাহু সিজদা দেওয়ার নিয়ম নেই। তাই যদি ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের সময় কোনো ওয়াজিব ছুটে যায়, যেমন কেউ প্রথম বা শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়তে ভুলে গেলো, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে না এবং নামাজ হয়ে যাবে।

একা নামাজ আদায়ের সময় যদি সুন্নত ছুটে যায়, তাহলে নামাজ হয়ে যায়, সাহু সিজদাও দিতে হয় না। জামাতে ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের সময়ও সুন্নত ছুটে গেলেও নামাজ হয়ে যাবে, সাহু সিজদা দিতে হবে না। যেমন কেউ যদি তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত না তোলে বা শেষ বৈঠকে দরুদ না পড়ে, তাহলে একা নামাজ আদায়ের সময় নামাজ বাতিল হয় না এবং সাহু সিজদা দিতে হয় না, জামাতে নামাজের সময়ও নামাজ বাতিল হবে না, সাহু সিজদাও দিতে হবে না।

ওএফএফ

Advertisement