রাস্তার পাশে দুজন মানুষের তর্ক শুরু হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই চারপাশে ভিড় জমে যায়। কেউ থেমে দাঁড়ান, কেউ দূর থেকে দেখেন, কেউ আবার ভিডিও করতেও শুরু করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যাদের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই, তারাও আগ্রহ নিয়ে দেখতে থাকেন।
Advertisement
এটি শুধু কৌতূহল নয় - মানুষের মনস্তত্ত্ব, সামাজিক আচরণ এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গেও এর সম্পর্ক আছে।
কেন মানুষ থেমে যায়? ১. কৌতূহল মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতাহঠাৎ অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা ঘটলে মস্তিষ্ক সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরে। তাই কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে - জানার আগ্রহ তৈরি হয়।
২. সংঘাতের প্রতি মনোযোগ বেশি যায়চিৎকার, উচ্চস্বরে কথা বা উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ আমাদের মনোযোগ দ্রুত টেনে নেয়। কারণ মস্তিষ্ক সম্ভাব্য বিপদ বা পরিবর্তনের দিকে স্বাভাবিকভাবেই বেশি নজর দেয়।
Advertisement
মানুষ সামাজিক প্রাণী। অন্যের সম্পর্ক, মতবিরোধ বা নাটকীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেকের মধ্যেই থাকে। এটি এক ধরনের সামাজিক পর্যবেক্ষণ।
৪. ‘আমি একাই না’ মানসিকতাএকজন দাঁড়ালে আরেকজনও দাঁড়ান। কিছুক্ষণের মধ্যে ভিড় বাড়ে। মনোবিজ্ঞানে এটিকে ক্রাউড বিহেভিয়র বা দলগত আচরণের অংশ হিসেবে দেখা হয়।
৫. বিরক্তিকর রুটিনে হঠাৎ উত্তেজনাদৈনন্দিন একঘেয়ে পরিবেশে হঠাৎ কোনো নাটকীয় ঘটনা অনেকের কাছে বিনোদনের মতোও মনে হতে পারে।
কিন্তু সমস্যা কোথায়? ভিড় জমলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ঝগড়া বাড়তে পারে আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করা কঠিন হয় যানজট বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় কেউ সাহায্য না করে শুধু দেখতেই ব্যস্ত থাকেমনোবিজ্ঞানে এটিকে অনেক সময় বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যেখানে ভিড়ের মধ্যে দায়িত্ববোধ কমে যায়।
Advertisement
অন্যের ঝগড়া দেখতে ভিড় করা মানুষের স্বাভাবিক কৌতূহল ও সামাজিক আচরণের অংশ হলেও, সব কৌতূহল কাজে লাগে না। কখন থামতে হবে, কখন সাহায্য করতে হবে - এই সচেতনতা থাকাই সবচেয়ে জরুরি।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, জার্নাল অব সোশ্যাল সাইকোলজি, মায়ো ক্লিনিক
এএমপি/এএসএম