ফেসবুকে ছবি বা কোনো পোস্ট দেওয়ার পর বারবার নোটিফিকেশন চেক করছেন? কত লাইক হলো, কে কমেন্ট করল, কারা রিঅ্যাক্ট দিল - এসব দেখার আগ্রহ এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস।
Advertisement
পোস্টে ভালো সাড়া পেলে মন ভালো লাগে, আর প্রত্যাশামতো প্রতিক্রিয়া না পেলে মন খারাপও হতে পারে। তবে এটি শুধু সামাজিক আচরণ নয় - এর সঙ্গে মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে।
মস্তিষ্কে কী ঘটে?যখন কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে, তখন মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম সক্রিয় হয়। এতে ডোপামিন নামের রাসায়নিক নিঃসৃত হতে পারে, যা আনন্দ, স্বীকৃতি ও তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে।
সহজভাবে বললে, সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতিকে মস্তিষ্ক পুরস্কার হিসেবে দেখে।
Advertisement
মানুষ স্বভাবগতভাবেই অন্যের গ্রহণযোগ্যতা চায়। লাইক-কমেন্ট সেই স্বীকৃতির ডিজিটাল রূপ।
২. অনিশ্চিত পুরস্কারের টানকখন কত লাইক আসবে, কে কমেন্ট করবে - এটি অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তাই বারবার অ্যাপ খুলে দেখার প্রবণতা বাড়ায়।
৩. সামাজিক তুলনানিজের পোস্টের প্রতিক্রিয়া অন্যদের সঙ্গে তুলনা করলে আত্মমূল্যায়নও এতে জড়িয়ে যায়।
নেতিবাচক প্রভাবও হতে পারে ১. আত্মমর্যাদা কমে যাওয়াপ্রত্যাশামতো সাড়া না পেলে মনে হতে পারে - আমাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
Advertisement
পোস্ট দেওয়ার পর অতিরিক্ত অপেক্ষা বা প্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তা মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
৩. আসক্তির মতো ব্যবহারনোটিফিকেশন বারবার চেক করা, মন খারাপ হলে পোস্ট দেওয়া - এগুলো অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
৪. মুডের ওঠানামাডিজিটাল প্রতিক্রিয়ার ওপর মন ভালো-মন্দ নির্ভর করতে শুরু করলে আবেগ অস্থির হতে পারে।
কীভাবে ব্যালান্স রাখবেন? পোস্ট দেওয়ার পর বিরতি নিন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বারবার চেক না করে কিছু সময় ফোন দূরে রাখুন নিজের মূল্যকে লাইক দিয়ে মাপবেন না অনলাইন প্রতিক্রিয়া আপনার বাস্তব মূল্য নির্ধারণ করে না নোটিফিকেশন সীমিত করুন অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে চাপ কমে অফলাইন সংযোগ বাড়ানবাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও কথোপকথন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি কার্যকর।
ফেসবুকের লাইক-কমেন্টে ভালো লাগা স্বাভাবিক, কারণ মস্তিষ্ক এটিকে সামাজিক পুরস্কার হিসেবে নেয়। তবে যদি এই প্রতিক্রিয়ার ওপর আত্মবিশ্বাস বা মুড নির্ভর করতে শুরু করে, তখন সচেতন হওয়া জরুরি। ডিজিটাল স্বীকৃতি ভালো, কিন্তু সেটিই সব নয়।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, জার্নাল অব সোশ্যাল মিডিয়া স্টাডিজ, মায়ো ক্লিনিক
এএমপি/এমএস