শরীর খারাপ, পরিবারের জরুরি কাজ, মানসিক ক্লান্তি কিংবা নিজের প্রয়োজন - সব মিলিয়ে ছুটি নেওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। তবু অফিসে ছুটির আবেদন করতে গেলেই অনেকের মনে অস্বস্তি কাজ করে।
Advertisement
মনে হয় - আমি কি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছি? সহকর্মীরা কী ভাববে? বস বিরক্ত হবেন না তো? আমাকে অলস বা ফাঁকিবাজ ভাববে না তো!
এই অপরাধবোধ খুবই সাধারণ। কিন্তু এটা কি স্বাভাবিক? এটি শুধু ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং কর্মসংস্কৃতি, মানসিক চাপ এবং নিজের চিন্তার ধরণ - সবকিছুর মিশ্র ফল।
কেন ছুটি নিতে অপরাধবোধ হয়? ১. সবসময় প্রোডাকটিভ থাকার চাপঅনেক কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকা এবং সবসময় উপস্থিত থাকাকে দক্ষতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। ফলে ছুটি নিলে মনে হয়, আপনি পিছিয়ে পড়ছেন। আবার বছরের ছুটি জমিয়ে রাখা ও ছুটি না নেওয়াকে অনেক অফিস ‘ডেডিকেশন’ হিসেবে দেখে। এই কর্মসংস্কৃতিগুলো অফিসে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার একটি টক্সিক ট্রেন্ড তৈরি করে ফেলেছে।
Advertisement
অনেকে মনে করেন, তাদের অনুপস্থিতিতে সব কাজ থেমে যাবে। এই অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ অপরাধবোধ তৈরি করে।
৩. অন্যরা কী ভাববে - এই ভয়সহকর্মীরা ‘কমিটেড নন’ ভাববে কি না, এমন দুশ্চিন্তা অনেকের মধ্যেই থাকে। আবার কেউ দুটো কথা শুনিয়ে দেবেন কিনা – এসব ভয় থেকে ছুটির কথা বলতে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই।
৪. শৈশব থেকে শেখা ধারণাঅনেকে ছোটবেলা থেকে শুনে বড় হয়েছেন - অকারণে বিশ্রাম নেওয়া খারাপ, কাজ আগে। এই মানসিকতা বড় হয়েও থেকে যায়।
৫. নিজেকে কাজের সঙ্গে মেলানোযখন নিজের মূল্যবোধ পুরোপুরি কাজের সাফল্যের ওপর দাঁড়িয়ে যায়, তখন ছুটি নেওয়া মানেই নিজের মূল্য কমে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে।
Advertisement
বিশ্রাম নেওয়া বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সময় নেওয়া কোনো দায়িত্বহীনতা নয়। বরং সুস্থ কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এটি প্রয়োজনীয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম কর্মদক্ষতা, মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
কীভাবে অপরাধবোধ কমাবেন? ১. ছুটিকে প্রয়োজন হিসেবে দেখুন ২. এটি অপশন নয়, অনেক সময় প্রয়োজন। ৩. আগে থেকে পরিকল্পনা করুন ৪. কাজগুলো গুছিয়ে রেখে ছুটি নিলে মানসিক চাপ কমে। ৫. নিজেকে প্রশ্ন করুন - যদি সহকর্মী একই কারণে ছুটি নিতেন, আপনি কি তাকে দোষ দিতেন? না হলে নিজেকেও দোষ দেবেন না। ৬. কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে স্বাস্থ্যকর সীমা তৈরি করুন।অফিসে ছুটি নেওয়ার সময় অপরাধবোধ কাজ করা মানে আপনি দায়িত্ববান - কিন্তু অতিরিক্ত হলে সেটিই মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। মনে রাখুন, বিশ্রাম নেওয়া বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সময় নেওয়া আপনার অধিকার, বিলাসিতা নয়। সুস্থ মানুষই দীর্ঘমেয়াদে ভালো কাজ করতে পারেন।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ, মায়ো ক্লিনিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এএমপি/এমএস