আন্তর্জাতিক

ইরানের ইউরেনিয়াম সরাতে রাশিয়া ও অন্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে: আইএইএ

রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েট প্রেস।

Advertisement

গ্রোসি বলেন, এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এর জন্য রাজনৈতিক অনুমোদন প্রয়োজন, তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই উপাদানটি ইরান থেকে বের করা। তিনি আরও যোগ করেন, এই ইউরেনিয়ামকে অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে এর সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো যেতে পারে।

এর আগে রুশ বার্তা সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ রুহুল্লা মোদাব্বের বলেন, ইরান যদি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও অনুকূল ও টেকসই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর অভিযোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। ৭ এপ্রিল ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর প্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

Advertisement

১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফা আলোচনা করে, তবে বিভিন্ন মতপার্থক্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর প্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল ইরানের হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প।

এরপর ২১ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ইরান জানায়, তারা একতরফা এই সিদ্ধান্ত মানবে না এবং নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম

Advertisement