লাইফস্টাইল

চিৎকার নয়, বোঝাপড়ায় বড় হোক সন্তান

বাচ্চাকে মানুষ করা কখনোই সহজ কাজ নয়। দুষ্টুমি, না শোনা, জেদ এসব যেন তাদের বেড়ে ওঠারই অংশ। কিন্তু এই আচরণ সামলাতে গিয়ে অনেক সময় বাবা-মা নিজেরাই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন আর শুরু হয় চিৎকার। মুহূর্তের জন্য হয়তো বাচ্চা থেমে যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

Advertisement

বর্তমানে সচেতন প্যারেন্টিং-এ তাই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চিৎকার না করে, ভালোবাসা আর কৌশলে বাচ্চাকে বোঝানো। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি কার্যকর টেকনিক, যা আপনার সন্তানকে শাসনের বদলে শেখাতে সাহায্য করবে।

চোখে চোখ রেখে কথা বলা

দূর থেকে চিৎকার করে ‘এটা করো’ বা ‘ওটা করো না’ বললে শিশুর মনোযোগ ঠিকমতো আসে না। বরং আপনি যদি তার কাছে যান, নিচু হয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে কথা বলেন তাহলে সে নিজেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অনুভব করে। এই ছোট্ট পরিবর্তন শিশুর সঙ্গে আপনার সংযোগকে গভীর করে। সে বুঝতে শেখে, আপনি তাকে আদেশ দিচ্ছেন না, বরং বোঝাতে চাইছেন।

ছোট ও সহজ নির্দেশ

অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের বড় বড় ভাষণ দিয়ে ফেলি, যা তাদের বোঝার বাইরে চলে যায়। ফলে তারা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। এর বদলে ছোট, স্পষ্ট নির্দেশ দিন। যেমন- জুতো পরো, খেলনা জায়গায় রাখো। এতে শিশুর জন্য কাজটি বোঝা সহজ হয় এবং সে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

Advertisement

আরও পড়ুন:  ত্রিভুজ প্রেম, ভালোবাসা না বিভ্রান্তি বিয়ে টিকিয়ে রাখার ছোট্ট অভ্যাস, বড় প্রভাব দাম্পত্যে শান্তি চান? মেনে চলুন এই নিয়মগুলো ফিসফিস কৌশল

বাচ্চা যখন খুব হৈচৈ করছে, তখন স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলো চিৎকার করে থামানো। কিন্তু এর বিপরীতে আপনি যদি হঠাৎ ফিসফিস করে কথা বলা শুরু করেন, তখন শিশুর কৌতূহল জাগে। সে থেমে যায়, কারণ সে শুনতে চায় আপনি কী বলছেন। এই কৌশলটি অনেক সময় ম্যাজিকের মতো কাজ করে, চিৎকার ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

‘না’ নয়, ইতিবাচক ভাষা

‘দৌড়াবে না’, ‘চিৎকার করো না’-এই ধরনের নেতিবাচক শব্দ শিশুর মনে বাধা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু আপনি যদি একই কথা ইতিবাচকভাবে বলেন (যেমন- ‘আস্তে হাঁটো’, ‘আস্তে কথা বলো’) তাহলে সে কী করতে হবে, সেটি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে। ইতিবাচক ভাষা শিশুর আচরণকে গঠনমূলকভাবে পরিচালিত করে এবং তার মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সতর্ক সংকেত দেওয়া

বাচ্চারা হঠাৎ করে কোনো কিছু বন্ধ করতে পছন্দ করে না। যেমন: হঠাৎ টিভি বন্ধ করে দিলে বা খেলনা সরিয়ে নিলে তারা বিরক্ত হয়। তাই আগে থেকেই সতর্ক করে দিন, ‘আর ৫ মিনিট, তারপর টিভি বন্ধ হবে। এতে শিশুর মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে এবং সে সহজেই পরিবর্তনটি মেনে নিতে পারে।

শিশুকে মানুষ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ধৈর্য, ভালোবাসা আর সঠিক কৌশল। চিৎকার হয়তো মুহূর্তের জন্য কাজ করে, কিন্তু বোঝাপড়া আর ইতিবাচক যোগাযোগ দীর্ঘমেয়াদে শিশুর আত্মবিশ্বাস, আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। মনে রাখবেন, আপনার প্রতিটি আচরণই আপনার সন্তানের শেখার অংশ। তাই শাসনের বদলে শেখানোর পথ বেছে নিন, তাতেই গড়ে উঠবে একটি আত্মবিশ্বাসী, সংবেদনশীল ও সুখী মানুষ।

Advertisement

তথ্যসূত্র: পজেটিভ প্যারেন্টিং টিপস, ইউনিসেফ

জেএস/