ঘরে নতুন বাবুর আগমন মানেই আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর একরাশ নতুন দায়িত্ব। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে থাকে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়, প্রথম ৪০ দিন। এই সময়টা শুধু নবজাতকের জন্যই নয়, মায়ের জন্যও অত্যন্ত সংবেদনশীল।
Advertisement
একটু অসতর্কতা যেমন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তেমনি কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই নিশ্চিত করা যায় মা ও শিশুর সুস্থতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ৫টি জরুরি যত্ন, যেগুলো প্রতিটি পরিবারে মেনে চলা উচিত-
সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা: ছোট্ট জীবনের বড় নিরাপত্তানবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মের পর খুবই দুর্বল থাকে। তাই এই সময় ইনফেকশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাইরে থেকে এসে হাত না ধুয়ে শিশুকে কোলে নেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। অনেক সময় অতিথিরা ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে শিশুকে কোলে নেয় বা চুমু খায়, এটিও এড়িয়ে চলা জরুরি। শিশুর চারপাশে যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমানোই এখানে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
মায়ের বিশ্রাম: সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশুর ভিত্তিশিশুর জন্মের পর মায়ের শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপও কাজ করে। তাই এই সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাচ্চা যখন ঘুমায়, তখন মায়েরও ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। পরিবারের অন্য সদস্যদের এখানে বড় ভূমিকা রয়েছে। শিশুর বাবা বা ঘরের অন্যরা যদি মায়ের দৈনন্দিন কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, তাহলে মা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
Advertisement
নবজাতকের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গা হলো মায়ের বুক। প্রতিদিন কিছু সময় বাচ্চাকে মা বা বাবার খালি বুকে শুইয়ে রাখলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে এবং সে মানসিকভাবে শান্ত থাকে। এটি শুধু শারীরিক উপকারই করে না, বরং মা-বাবার সঙ্গে শিশুর বন্ধন আরও দৃঢ় করে তোলে। অনেক সময় কান্নাকাটি করা শিশুকে শান্ত করতেও এটি আশ্চর্যরকম কার্যকর।
নিয়মিত ফিডিং ও ঢেকুর: আরামদায়ক হজমের চাবিকাঠিনবজাতকের পেট খুব ছোট, তাই তাকে বারবার খাওয়ানো প্রয়োজন। সাধারণত প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর শিশুকে ফিডিং করানো উচিত। খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ঢেকুর তোলানো জরুরি। এতে পেটে জমে থাকা বাতাস বের হয়ে যায়, ফলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা কমে এবং শিশুর অস্বস্তি বা কান্নাও কম হয়।
নাভির যত্ন: পরিচ্ছন্নতাই নিরাপত্তানবজাতকের নাভি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিজে থেকে পড়ে না যাওয়া পর্যন্ত বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। এই সময় শিশুকে পুরোপুরি গোসল না করিয়ে নরম সুতির কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দেওয়া ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাভিতে কোনো ধরনের তেল, পাউডার বা ওষুধ ব্যবহার না করা। এটি ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নাভি শুকনো ও পরিষ্কার রাখাই এখানে মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: এই গরমে শিশুর জন্য যা না জানলেই নয় হামের প্রকোপ বাড়ছে, সতর্ক করলেন ডা. শামীমা ইয়াসমীন হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরিনতুন বাবুর প্রথম ৪০ দিন আসলে একটি ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট পিরিয়ড’, যেখানে মা-বাবা এবং শিশুর মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সময়টাতে যত্ন, ধৈর্য আর সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ছোট ছোট কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই সময়টাকে নিরাপদ ও সুন্দর করে তোলা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, এই ৪০ দিনের সঠিক যত্নই শিশুর ভবিষ্যৎ সুস্থতার ভিত্তি গড়ে দেয়। নতুন জীবনের এই শুরুটা হোক নিরাপদ, ভালোবাসায় ভরা এবং নিশ্চিন্ত।
Advertisement
তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, ইউনিসেফ
জেএস/