লাইফস্টাইল

কোরবানির আনন্দে ভুলে যাবেন না স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা

কোরবানির ঈদ কেবল ত্যাগের শিক্ষা নয়, এটি সংযম ও সচেতনতারও এক অনন্য বার্তা বহন করে। কোরবানির গরুর মাংস আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নেয়ামত, তবে এই নেয়ামতের ব্যবহারেও ইসলামের মূল শিক্ষা হলো ভারসাম্য ও মিতব্যয়িতা। অতিরিক্ত ভোজন কিংবা অপচয়-দুটিই ইসলামের সৌন্দর্যের পরিপন্থী। তাই কোরবানির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন পরিমিতি, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও মানবিক বোধ।

Advertisement

ইসলামে কোরবানির মাংস নিজে খাওয়া বৈধ, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা সুন্নত এবং অসহায় মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া উত্তম আমল। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও কোরবানির গোশত গ্রহণ করতেন এবং অন্যদের দিতেন। তবে ইসলাম কখনো অতিভোজনকে উৎসাহ দেয় না। বরং শরীরের সামর্থ্য ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে মাংস খাওয়ার নির্দেশনাই ইসলামের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে।

গরুর মাংস আদৌ নিরাপদ কি না? এই প্রশ্নের উত্তরও ভারসাম্যের মধ্যেই নিহিত। সুস্থ ও সঠিকভাবে জবাইকৃত পশুর মাংস পুষ্টিকর খাদ্য। এতে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন ও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা উপাদান। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস অতিমাত্রায় গ্রহণ করলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, হৃদরোগী, কিডনি রোগী কিংবা যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য সতর্কতা জরুরি। তাই সবার জন্য একই মাত্রায় মাংস গ্রহণ উপযোগী নয়।

আরও পড়ুন:

Advertisement

ঈদের খাবারে মেনে চলুন স্বাস্থ্যবিধি ঈদে যেমন হওয়া ‍উচিত ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্তুতি

ইসলাম কখনো কোনো খাদ্যকে জাতিগত বা ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে বিচার করেনি। মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস সবার জন্যই কল্যাণকর। কোরবানির মাংসও তেমনি; এটি নিরাপদ তখনই, যখন তা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংরক্ষণ ও গ্রহণ করা হয়।

অতএব, কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল মাংস ভক্ষণে নয়; বরং ভাগাভাগি, সংযম ও মানবিকতার চর্চায়। ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন আমাদের থালার স্বাদ ছাপিয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে।

জেএস/

Advertisement