উৎসব মানেই আনন্দ, মিলনমেলা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে বিশেষ সময় কাটানো। নানা আয়োজন, সুস্বাদু খাবার আর ভ্রমণের কারণে এই সময়টা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উৎসবের দিনগুলো একটু বাড়তি সতর্কতারও দাবি রাখে। আগে থেকেই কিছু বিষয় পরিকল্পনায় রাখলে তারাও নিশ্চিন্তে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
Advertisement
উৎসবের সময় খাবারের ধরন ও দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়ায় ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই উৎসব শুরুর আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। এ সময় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মূল খাবারের আগে, খাবারের প্রায় দুই ঘণ্টা পরে এবং রাতে ঘুমানোর আগে সুগার মেপে রাখলে হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার ঝুঁকি দ্রুত বোঝা যায়।
খাদ্যাভ্যাসে পরিকল্পনা জরুরিউৎসবের খাবার মানেই অতিরিক্ত খাওয়া নয়। পরিমাণ বুঝে খাওয়া এবং ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। কম চিনি বা চিনি ছাড়া খাবার বেছে নেওয়া ভালো। ভাজাপোড়ার বদলে সেদ্ধ, বেকড বা গ্রিল করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি শাকসবজি ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে উপকার পাওয়া যায়। ফলের ক্ষেত্রে কম চিনিযুক্ত ফল বেছে নেওয়া উচিত এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
আরও পড়ুন:
Advertisement
উৎসবের ব্যস্ততার মাঝেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটা বেশ উপকারী।
ঘুম ও বিশ্রামে গুরুত্ব দিনউৎসবের সময় অনেকেরই ঘুমের রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত রাত জাগা এড়িয়ে নিয়মিত ঘুম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
আত্মনিয়ন্ত্রণই বড় শক্তিডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আত্মসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘একদিন বেশি খেলেই কিছু হবে না’—এমন ভাবনা থেকে দূরে থাকতে হবে। নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরও উচিত ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপযোগী খাবারের ব্যবস্থা রাখা।
ওষুধ ও জরুরি প্রস্তুতিউৎসব বা ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে রাখতে হবে। ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের অবশ্যই সঠিক তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণ করতে হবে। ওষুধ খাওয়ার সময় মনে রাখতে মোবাইল ফোন বা ঘড়িতে রিমাইন্ডার সেট করা যেতে পারে।
Advertisement
ডায়াবেটিস রোগীদের হঠাৎ রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে যাওয়ার (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) ঝুঁকি থাকে। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা আগে থেকেই জানা জরুরি। সঙ্গে গ্লুকোজ ট্যাবলেট, চিনি, দ্রুত শক্তি দেয় এমন খাবার, গ্লুকোমিটার এবং চিকিৎসকের যোগাযোগ নম্বর রাখা ভালো।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
জেএস/