বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে সোনার দুলের লোভে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দম্পতির বিরুদ্ধে।
Advertisement
নিহত রাখা মনি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের সাহেব পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও অটোভ্যান গ্যারেজের কর্মচারী আবু রায়হানের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেব পাড়া মহল্লায় অভিযুক্ত আমজাদের বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
আটকরা হলেন সাহেব পাড়ার আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা বেগম (৩০) ও প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৩৮)।
Advertisement
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মা অন্যত্র বিয়ে করায় দাদির কাছে থাকে একটি নুরানি মাদরাসায় নার্সারি শ্রেণিতে পড়তো রাখা মনি। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সরকারি কলেজ এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তাকে একা পয়ে আমজাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তার কানে একজোড়া সোনার দুল ছিল। পরে সেটি ছিনিয়ে নিয়ে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয় রাখা মনিকে। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।
রাখা মনিকে দীর্ঘসময় দেখতে না পয়ে খোঁজ করতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশী আমজাদের বাড়িতে বস্তাবন্দি মরদেহটি দেখতে পান তারা।
বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা আমজাদ ও তার স্ত্রী বন্যাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাদের থানায় নেওয়ার পর পরই এলাকাবাসী আটকদের বাড়িঘরে হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক (আইসি) ও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
নিহত শিশু রাখা মনির বাবা রায়হান বলেন, ‘একজোড়া সোনার দুলের লোভে আমার এইটুকু মেয়েকে তারা এভাবে হত্যা করলো। আমার একটাই চাওয়া, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।’
Advertisement
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সোনার দুলের লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এলবি/এসআর/এএসএম