জাতীয়

বাসায় যাওয়া নিয়ে মাদক কারবারিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, হুমকির পর হামলা

রাজধানীর কাফরুল এলাকায় এক মোটরসাইকেল চালককে চলন্ত অবস্থায় ইট নিক্ষেপের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা গেছে, ভিকটিমের বাসায়ই আসামিরা আগে ভাড়া থাকতেন। আসামিদের মাদক ব্যবসা এবং তার বাড়ির সামনে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের সঙ্গে তাদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ নিয়ে হুমকি দেওয়ার পরদিনই হামলার শিকার হন মোটরসাইকেল চালক রাফি।

Advertisement

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার। গ্রেফতাররা হলেন- মো. পারভেজ (৩০), আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২) ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু (২৭)।

এর মধ্যে, পারভেজকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এবং আনোয়ারকে কাফরুলের ইব্রাহিমপুর থেকে গ্রেফতার করেছে কাফরুল থানা পুলিশ এবং কালুকে একই দিন কাফরুল থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৪।

পুলিশ বলছে, ভিকটিম রাফির বাসায় ভাড়া থাকতেন আসামিরা। আসামি পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বাসা ছাড়ার পরও পারভেজ ও তার সহযোগীরা রাফির বাসায় যাতায়াত করতেন এবং বাসার সামনে অবস্থান করতেন। যা ভুক্তভোগী রাফি পছন্দ করতেন না। এ নিয়ে রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর কথা কাটাকাটি হয় এবং তারা রাফিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন তার ওপর হামলা করা হয়।

Advertisement

মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার বলেন, গত মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে কাফরুল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ১০০ গজ পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তায় ভিকটিম রাফি মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাসায় ফেরার পথে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী পূর্ব শত্রুতার জেরে ভিকটিম রাফির মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করেন। এতে ভিকটিম রাফি মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুষ্কৃতিকারীরাই ঘটনাস্থল থেকে একটি অটোরিকশায় করে ভিকটিমকে নিয়ে যান । পরে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী স্থান থেকে ভিকটিমের মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তকালে কাফরুল থানা পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত চারজনকে শনাক্ত করে। তারা হলেন- ইট নিক্ষেপকারী মো. পারভেজ, মো. ফয়সাল ওরফে কালু, অটোচালক আনোয়ার হোসেন বাবু ও আমিন। এদের মধ্যে পারভেজ ও আনোয়ারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং কালুকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে ডিসি মোস্তাক সরকার আরো বলেন, পারভেজ আগে ভিকটিম রাফির বাসায় ভাড়া থাকতেন। ভাড়া থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে রাফির পরিচয় হয়। পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বাসা ছাড়ার পরও পারভেজ ও তার সহযোগীরা রাফির বাসায় যাতায়াত করতেন এবং বাসার সামনে অবস্থান করতেন। যা ভুক্তভোগী রাফি পছন্দ করতেন না।

ডিসি আরও বলেন, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় এ নিয়ে রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে তারা রাফিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন রাত ১টার দিকে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আমিন তার গতিরোধের চেষ্টা করেন এবং মোটরসাইকেল না থামালে পারভেজ ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর আসামিরা বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আশপাশের লোকজনকে জানায় যে ওপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন। পরে তারা রাফিকে অটোরিকশায় করে ইব্রাহিমপুর এলাকায় ফেলে রেখে চলে যান।

এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তাক সরকার বলেন, গ্রেফতার পারভেজ ও কালুর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গ্রেফতারদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া, এ ঘটনায় জড়িত আমিন এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

কেআর/এএমএ