প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে চীন সফরে যাচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং। আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত চীনে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর করবেন মিন অং হলাইং। শুক্রবার (১২ জুন) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে সিনহুয়া।
Advertisement
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান দৈনিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, সফরকালে মিন অং হ্লাইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেঝি পৃথকভাবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
লিন জিয়ান বলেন, চীন ও মিয়ানমার ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং অভিন্ন ভবিষ্যতের একটি সম্প্রদায়। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৭৬ বছর ধরে উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির চেতনায় পরিচালিত হয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ সুখ-দুঃখে একে অপরের পাশে থেকেছে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি জোরদার করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দিকে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং এই সফরের মাধ্যমে চীন মিয়ানমারের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ভ্রাতৃপ্রতিম (পক-ফাও) বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে চায়। পাশাপাশি দুই দেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা, অংশীদারত্ব আরও গভীর করা, অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-মিয়ানমার সম্প্রদায় গঠনে বাস্তব ফল অর্জন করা এবং দুই দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনার প্রত্যাশা করছে।
Advertisement
এর আগে গত মে মাসে আরেক প্রতিবেশী দেশ ভারত সফর করেছেন মিন অং হ্লাইং। ৩০ মে–৩ জুন ভারতের সফরে বড় কোনো একক বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা না এলেও উভয় দেশ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
সফরে আলোচনার প্রধান বিষয়গুলো ছিল-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিরল খনিজ (Rare Earth) সম্পদে সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ খাত, সংযোগ প্রকল্প (Connectivity) উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিদ্রোহীগোষ্ঠী দমন।
এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট প্রকল্প এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক (আইএমটি ট্রাইল্যাটেরাল হাইওয়ে) এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও মতৈক্য হয়েছে।
কেএম
Advertisement