বাজার বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কোনো পুলিশ, র্যাব কিংবা সরকারি লোক দিয়ে পিটিয়ে করার বিষয় না, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক পলিসি ও ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে।
Advertisement
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা তো জানেন মূল্যস্ফীতি গত তিন মাসের ব্যাপার না, এটি গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং গত তিন মাস ধরে তা ৯ শতাংশের ওপরে চলছে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিগ্রহ এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, লুটপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে বিরাট ক্যাপিটাল (মূলধন) ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ‘কস্ট অব ফান্ড’ অনেক বেড়ে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটছে মূল্যস্ফীতির ওপর। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানিকৃত সব পণ্যের দামই দেশের বাজারে বেড়ে যাচ্ছে।
Advertisement
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বহির্বিশ্বের কারণে যে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, সেখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে ডোমেস্টিক্যালি (অভ্যন্তরীণভাবে) কীভাবে ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনা যায়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইজ অব ডুইং বিজনেস (সহজে ব্যবসা করার সূচক) মানদণ্ডে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ একেবারে তলানিতে। এর অর্থ হলো আমাদের ব্যবসার খরচ অনেক বেশি। একটি পারমিশন পেতে বা কোম্পানি করতে ৬ মাস থেকে ১ বছর লেগে যায়। অনেকগুলো ডিপার্টমেন্টে যেতে হয়, সময় নষ্ট হয় এবং অনেক জায়গায় তাদের খরচ (ঘুষ/অনিয়ম) করতে হয় এটা তো সত্য কথা।
এই প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ডি-রেগুলেশনসহ নানামুখী সংস্কার (Reforms) পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
স্পট বায়িং বন্ধ, ৩ মাসের বাফার স্টকের পরিকল্পনাজ্বালানি ও খাদ্য আমদানিতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্পট মার্কেট (তাৎক্ষণিক ক্রয়) থেকে কেনার কারণে খরচের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ২-৩ ঘণ্টার নোটিশে বেশি দামে কিনতে হয়। অতীতে এই দীর্ঘমেয়াদি অ্যারেঞ্জমেন্টগুলো করা হয়নি।
Advertisement
তিনি বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রোপার প্ল্যানিং দরকার। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় আমাদের রিজার্ভ বা নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে ৩ মাসের জ্বালানি ও খাদ্য মজুত রাখার মতো বাফার স্টক (Buffer Stock) গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের পোর্টগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও বাড়তি খরচ কমাতে পারলে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটবৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
বাজেট-উত্তর এই হাইপ্রোফাইল সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, জহির উদ্দিন স্বপন, মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, অর্থ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত সাংবাদিকরা।
ইএআর/এএমএ