দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি করতে পর্যটনের সঙ্গে থিয়েটার, সংগীত, চলচ্চিত্র ও শিল্পকলাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দিতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটন সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বিনোদন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে সিনেমা, গান ও থিয়েটারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সফট পাওয়ার গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন অভাব থাকলে দুর্নীতির প্রবণতা থাকে, বেতন বাড়লে কমবে: অর্থমন্ত্রীঅর্থমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র বিদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর না করে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে পারলে তা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বর্তমানে দেশে বিনোদনের সুযোগ সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, থিয়েটার, ডিজাইন, আর্ট ও মিউজিকের মতো সৃজনশীল খাতগুলোকে পর্যটনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির আওতায় আনা হচ্ছে।
Advertisement
মন্ত্রী জানান, ঢাকার বাইরে একটি বিশেষ ক্রিয়েটিভ হাব বা সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এরই মধ্যে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ।
আরও পড়ুন কিছু ব্যাংক থেকে এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে: গভর্নরআমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টেকসই করতে হলে সেগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বা ‘মনিটাইজ’ করতে হবে। মিউজিক, থিয়েটার কিংবা ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করা না গেলে সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। এ লক্ষ্যেই তরুণ শিল্পী ও সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ সিনেমা, গান ও থিয়েটারের মাধ্যমে নিজেদের সফট পাওয়ার গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশও একই পথে এগোতে চায়। এর ফলে একদিকে যেমন পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট।
Advertisement
ইএআর/কেএসআর