বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌবের। তবে প্রয়োজনীয় ভিসা না পাওয়ায় কোনো দেশেই যেতে পারেননি তিনি। শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিন ফুটবলের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
Advertisement
রাজৌব জানান, বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ভিসা না মিললেও তিনি মেক্সিকোতে যেতে সক্ষম হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজৌব বলেন, আম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করলেও তা অনুমোদন করা হয়নি। বিষয়টিকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। বর্তমানে মেক্সিকোয় অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তিউনিসিয়ার ম্যাচ দেখার পর ফিলিস্তিনে ফিরে যাবেন।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডার ভিসাও পাননি বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি। তার দাবি, এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল বিষয়ে তাদের অবস্থানের কারণেই কিছু পক্ষ ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সীমিত রাখতে চায় বলে মনে করেন তিনি।
Advertisement
এর আগে গত এপ্রিলে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিয়েছিলেন রাজৌব। ওই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অনুরোধে ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যৌথ ছবি তোলার প্রস্তাব এলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থিত কিছু ক্লাবের অংশগ্রহণ নিয়ে ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আসছে ফিলিস্তিন। ফিফার কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না আসায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিতে গড়ে ওঠা ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রভাবেও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইরান দলের কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফ এবং সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের কিছু সমর্থকও মার্কিন ভিসা পাননি বলে জানা গেছে।
এসকেডি/এএসএম
Advertisement