জোকস

স্বামী আর্জেন্টিনা-স্ত্রী ব্রাজিল সাপোর্টার

সামছুল আলম শিমুল

Advertisement

স্ত্রী: তুমি যে আর্জেন্টিনার সাপোর্টার সেটা বিয়ের সময় বলোনি কেন?  আমি: তখন তো ফুটবল বিশ্বকাপের সিজন ছিল না।  স্ত্রী: কিন্তু আমায় যেদিন দেখতে এসেছিলে সেদিন সবুজ পকেটওয়ালা হলুদ রংয়ের পাঞ্জাবি পড়েছিলে তো।আমি: ওটা হলুদ ছিল না, বাসন্তী রঙের ছিল। আর তুমি যে ওটাকে ব্রাজিলের সিম্বল ভেবে বসেছো সেটা তো আমি বুঝিনি।  স্ত্রী: আমার অবশ্য বাসর রাতে তোমার সাদা-আকাশী পাঞ্জাবি দেখে কিছুটা সন্দেহ হয়েছিল বটে, কিন্তু তোমার ইনার গেঞ্জি আর মোজা জোড়া দেখে সন্দেহটা দূর হয়েছিল।  আমি: তুমি যে পোশাকে পোশাকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খুঁজে বেড়াচ্ছিলে, সেটা তো আমার এই ক্ষুদ্র মাথা বুঝে উঠতে পারেনি।  স্ত্রী: ভুল তো তাহলে একটা হয়েই গেছে। তবে ভুলটাও শুধরাতে হবে আমাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্ত্রীকে বললাম, এসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ো না। আমি আর্জেন্টিনার ফ্যান, কিন্তু মানুষ হিসেবে বেশ সহনশীল। অন্যের পছন্দের গুরুত্ব দিতে জানি।

আরও পড়ুন আজকের জোকস: পুরুষের যে কষ্ট কখনো যাবে না

ও এমনভাবে আমার দিকে তাকালো যেন মনে হলো ম্যাচের প্রথম মিনিটেই আমাকে ল্যাং মেরে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ল্যাং থেকে বাঁচতে আমি দ্রুত পগারপার। পরে যা হবে হোক।

Advertisement

পরের দিন অফিস থেকে বাসায় ফিরে আমি চোখে সরিষা গাছ দেখলাম। বাসার সবকিছুই হলুদ আর সবুজ। সোফার কাভার হলুদ, কুশন সবুজ, বিছানার চাদর সবুজ, বালিশ হলুদ, পর্দা, শ্যু রেক, ফ্যান এমনকি থালা বাসন ও চা-কফির মগও হলুদ ও সবুজের। 

পৃথিবীটা আমার কাছে জন্ডিসময় মনে হচ্ছে। চূড়ান্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আমি বললাম— 

আমি: দারুণ ইন্টেরিয়র আইডিয়া! তবে আমার শুধু একটা আবদার আছে।  স্ত্রী: তাড়াতাড়ি বলে ফেলো। অনেক কাজ আছে। পাপোষগুলো এখনো পাল্টাতে পারিনি।  আমি: আমাকে জাস্ট ৪ স্কয়ার ফিট জায়গা দিলেই হবে। জাস্ট একটা মেসির ছবি আর একটা ছোট আর্জেন্টিনার পতাকা এবং পতাকার নিচে লেখা ‘ভামোস আর্জেন্টিনা’...  স্ত্রী: গ্যালারিতে এক ইঞ্চিও জায়গা নেই। সরি জনাব...  

এবার আমার পুরুষ ও আর্জেন্টিনার ফ্যান হওয়ার ইগো দুটোই জেগে উঠলো। হুংকার দিয়ে বললাম: যে বাসায় গুরু মেসি আর আমার আকাশী-সাদার জায়গা হবে না, সে বাসায় আমিও থাকবো না।  

Advertisement

বউ আমার হুমকিতে বিচলিত হওয়ার বদলে বেশি আনন্দিতই হলো মনে হয়। খুব নিশ্চিন্ত মুখে বললো, যাক বাঁচিয়েছো। ফ্ল্যাটের সব ব্রাজিলিয়ান ভাবিরা মিলে নিশ্চিন্তে আড্ডা আর সেলিব্রেশন করা যাবে। আমি ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছি। তুমি পাঠাওয়ে বাইক কল করো।  

খেলা শুরু হওয়ার সাতদিন আগেই যে রকম অত্যাচারের আভাস পাচ্ছি, ব্রাজিল কোনো ম্যাচ জিতলে কিংবা আর্জেন্টিনা কোনো ম্যাচ হারলে পিঠে এগারোটা আর্জেন্টিনার জার্সি পরেও পার পাব কি না সন্দেহ আছে। তাই তল্পিতল্পা হাতে রওনা দিলাম আমার আর্জেন্টিনা পাগল বন্ধু হুয়ান রকিবের বাসায়। এবারের বিশ্বকাপ সিজনটা ওর বাসায় কাটাবো।

রকিবের বাসায় ঢুকতেই সে আমাকে দেখে হকচকিয়ে গেলো।  

আমি: কি রে, ভূত দেখার মতো চমকে উঠলে যে?  রাকিব: তেমন কিছু না। আমি আসলে তোর বাসায় যাওয়ার জন্যই তো রেডি হচ্ছিলাম।  আমি: মানে?  রাকিব: বাসায় টেকা যাচ্ছে না। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের সঙ্গে কথার অ্যাটাকে বার বার গোল খাচ্ছি।  আমি: আর্জেন্টিনার ডিফেন্স তো আর আগের মতো নেই। এখন তো বেশ শক্ত-পোক্ত।  রাকিব: সেটা তো ফুটবলের মাঠে। কিন্তু এই সংসারের মাঠে ডিফেন্সটা এখনো এতটা শক্ত হয়নি। তাই সম্মানের সঙ্গে এস্কেপ প্ল্যান খুঁজছিলাম তোর বাড়িতে আর তুই কি না আমার বাড়ি হাজির!

দুজনেই বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম। বহু আলাপ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো বিশ্বকাপের এই দুই মাস আমাদের যেসব বন্ধু আর্জেন্টিনার ফ্যান, তারা সবাই মিলে একটা বাসা ভাড়া করবো। সেখানে শুধুই মেসি আর আকাশী-সাদার ছড়াছড়ি থাকবে।

আমাদের দু-মাসের অস্থায়ী নিবাস তৈরি। কিন্তু লোকসংখ্যা যতটা হওয়ার কথা ভেবেছিলাম ততটা হয়নি। সবশেষে আসলে স্থায়ী বাসিন্দা আমরা দুজনেই। আমাদের বাকি বন্ধুদের ক্ষেত্রে কেউ বউয়ের চাপে দল পাল্টিয়েছে, আবার কেউ বউয়ের সঙ্গে শর্ত সাপেক্ষে সন্ধি করে নিয়েছে। 

আরও পড়ুন আজকের জোকস: স্বামীর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল কী হতে পারে

স্বপ্নের আকাশী ভুবনে শুয়ে শুয়ে ভাবছি- ব্রাজিলের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়ার দিন কিংবা আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার দিন ব্যান্ড পার্টি নিয়ে শাকিরার ওয়াকা-ওয়াকা কিংবা দাই দাই গান বাজিয়ে যখন বাসায় উপস্থিত হবো, তখন বউয়ের মুখটা কেমন হবে?  

ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠলো।  স্ত্রী: তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসো।  আমি: সেটা তো সম্ভব না। তুমি তো জানোই ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়ে গেছে। অ্যাডভান্স করে ফেলেছি। দুই মাসের জন্য। টোটাল পঞ্চাশ হাজার টাকা।  স্ত্রী: টাকা যা লাগে দেবো, তবুও তুমি চলে এসো।  

বউয়ের আতঙ্কিত কণ্ঠস্বরে হকচকিয়ে গিয়ে বললাম, কী হয়েছে বলো তো?

স্ত্রী: আমার বুদ্ধিতেই ফ্ল্যাটের সব আর্জেন্টিনা সাপোর্টারদের বিতাড়িত করা হয়েছে। ফলে পুরো বিল্ডিং হয়েছে পুরুষশূন্য। এই খবর ডাকাতদের কাছে পৌঁছে গেছে। বাসার নিচে একদল ডাকাত অস্ত্র হাতে শো-ডাউন দিচ্ছে। প্লিজ চলে আসো।  

আমি: কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।  স্ত্রী: বুঝেছি, ৪ স্কয়ারের বদলে ১৬ দিব। এবার হলো তো?  আমি: হলো না। ৪ এর বদলে ৪০ দিতে হবে।  স্ত্রী: তোমার আর আসতে হবে না। তুমি ওখানেই থাক। আমার এক্সকে ফোন করছি। ১৬ তো ১৬-ই ফাইনাল!আমি: ১৬ কেন ১ ও লাগবে না। আমি এক্ষুনি ব্যাগ গুছাচ্ছি। এক্স কে ফোন করার দরকার নেই। আমি সব ব্যবস্থা করছি।

ফুটবলের মাঠে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দ্বৈরথ থাকলেও আমাদের খেলার মাঠে একচেটিয়া জয় পায় ঐ ব্রাজিলিয়ান বউই।

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।

কেএসকে