বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনীতিতে প্রবাসী কিউবানদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের কিছু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা। তবে, দেশটিতে গৃহীত এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত বা বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।
Advertisement
শুক্রবার (১২ জুন) কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এ অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে এনবিসি।
কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দিয়াজ-কানেল বলেন, এখন ‘পরিবর্তনের সময় এসেছে’ এবং দেশটি ‘বর্তমান পথ ধরে আর এগিয়ে যেতে পারে না।’
প্রেসিডেন্সির প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, সংকটের মধ্যেও প্রতিটি সুযোগকে নতুন উড্ডয়ন ও প্রবৃদ্ধির মুহূর্ত হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে, যদিও সেগুলোর নিয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেননি।
Advertisement
বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকার মধ্যেই কিউবায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার তেল সরবরাহের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে দেশটির দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র হয়েছে।
দিয়াজ-কানেল জানান, বৈদেশিক বাণিজ্য, রপ্তানি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও লজিস্টিকস-সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছে সরকার। তিনি ইঙ্গিত দেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্রীয় মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হতে পারে এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারকদের শুল্ক সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কলাম্বিয়া থেকে প্রায় ১০০ টন খাদ্য ও জরুরি পণ্যবাহী একটি জাহাজ হাভানায় পৌঁছায়। কলাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নির্দেশে এ সহায়তা পাঠানো হয়। এর মধ্যে খাদ্য, ওষুধ, হাসপাতাল সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, সৌর প্যানেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মেক্সিকো ও বেলিজ থেকে ১ হাজার ৭০০ টন জরুরি পণ্যবাহী আরেকটি জাহাজ কিউবায় পৌঁছায়।
Advertisement
কিউবায় তেল বিক্রি বা সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছর জানুয়ারির শেষদিকে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন। কিউবার কাছে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবি জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।
কেএম