প্রবাস

শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-পাসপোর্ট ফেরত দেবে মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের ক্লাং এলাকায় অবস্থিত একটি গদি (বেডিং) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ১০০ বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বকেয়া ও পাসপোর্ট জব্দ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

Advertisement

বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক মুখপাত্র জানান, সোমবার (৮ জুন) হাইকমিশনের কর্মকর্তারা অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং এসডিএন বিএইচডি-এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়।

তিনি বলেন, “বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা চলতি মাসের শেষ নাগাদ সব বকেয়া বিষয় নিষ্পত্তির ব্যাপারে আন্তরিক অঙ্গীকার করেছে।”

হাইকমিশনের কাছে পাঠানো এক অঙ্গীকারপত্রে কোম্পানি জানিয়েছে, বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তাদের প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে অন্যান্য সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Advertisement

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বর্তমানে একটি সম্পত্তি বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ওই বিক্রয়লব্ধ অর্থ শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

চিঠিতে বলা হয়, “এটি আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। লেনদেন সম্পন্ন করে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের সব দায়বদ্ধতা পূরণ করতে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ সময় প্রয়োজন।”

শ্রমিকদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রত্যেক কর্মীকে মাসিক বেতন স্লিপ দেওয়া হবে, যেখানে বেতন ও বিভিন্ন কর্তনের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকবে।

এছাড়া কোম্পানি কয়েকটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের নিজ জিম্মায় পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়া, আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, চিকিৎসা ও পরিবহন সেবা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের কাছ থেকে জামানত কেটে রাখার প্রথা বন্ধ করা।

Advertisement

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদায়কৃত ফি প্রসঙ্গে অ্যারোফোম জানিয়েছে, এসব অর্থ বাংলাদেশে অবস্থিত তৃতীয় পক্ষের রিক্রুটিং এজেন্টদের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। কোম্পানি সরাসরি এ অর্থ গ্রহণ করেনি এবং এ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধাও পায়নি।

তবে এ বিষয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে সম্ভাব্য সহায়তার পথ খুঁজতে কোম্পানি আগ্রহী বলে জানিয়েছে।

শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা জোরপূর্বক শ্রম, মৌখিক নির্যাতন, অপমানজনক আচরণ কিংবা মানসিক হয়রানিকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না।

এছাড়া শ্রমিকদের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি কর্মীদের অভিযোগ গ্রহণ এবং শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করবেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের এই সক্রিয় উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় থাকা শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন কোম্পানির প্রতিশ্রুতিগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।

এমআরএম