২০২৬ বিশ্বকাপে শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই নয়, স্পেনকে লড়তে হচ্ছে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী, তীব্র গরমের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আবহাওয়াগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্পেন জাতীয় দল অনুশীলনে ব্যবহার করছে বিশেষ ‘কুলিং ভেস্ট’ বা শীতলীকরণ জ্যাকেট।
Advertisement
স্প্যানিশ দলের নতুন এই প্রযুক্তির নাম ক্লিমাকুল সিস্টেম । এতে রয়েছে বিশেষ ধরনের কুলিং ভেস্ট, জ্যাকেট এবং বুট-কভার। ভেস্টের ভেতরে থাকা বিশেষ জেল ব্যবহারের আগে হিমায়িত করা হয়। পরে খেলোয়াড়রা এটি পরলে জেল ধীরেধীরে গলে শরীরের ওপরের অংশ, পেট ও পিঠে শীতলতা ছড়ায়, ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি খেলোয়াড়দের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ত্বকের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। বিশ্বকাপে মোট ১৪টি দল এই ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, যার মধ্যে রয়েছে স্পেনও।
স্পেন দলের ফিটনেস কোচ কার্লোস ক্রুজ জানিয়েছেন, কুলিং ভেস্ট খেলোয়াড়দের দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি দেরিতে আসতে সাহায্য করে। তার ভাষায়, ‘শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে খেলোয়াড়দের আরও কার্যকরভাবে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে এই ভেস্ট। এতে ক্লান্তি কিছুটা বিলম্বিত হয় এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও দ্রুত হয়।’
Advertisement
তিনি আরও জানান,‘শুধু অনুশীলনের পরই নয়, ম্যাচের ওয়ার্ম-আপ এবং কিক-অফের মধ্যবর্তী সময়েও এই ভেস্ট ব্যবহার করা হতে পারে, যাতে খেলোয়াড়রা তুলনামূলক সতেজ অবস্থায় মাঠে নামতে পারেন। একই সঙ্গে বিশেষ কুলিং বুট-কভারও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পায়ের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।’
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ভ্রমণ, ভিন্ন সময় অঞ্চল এবং গরম আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জের মধ্যে স্পেনের এই উদ্যোগ আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির বাড়তে থাকা গুরুত্বকেই সামনে আনছে। বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠের কৌশলের পাশাপাশি এবার আবহাওয়ার সঙ্গেও প্রযুক্তির সাহায্যে লড়াই করছে লা রোজারা।
টিটিটি/আইএন
Advertisement