অর্থনীতি

বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগে ইতিবাচক, তবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ)।

Advertisement

সংগঠনটি বলেছে, দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাজেটের বিভিন্ন পদক্ষেপ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

রোববার (১৪ জুন) বাজেটের প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইউরোচ্যাম জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের জন্য কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুবর্ষী করনীতি রোডম্যাপ প্রণয়ন, কর রিটার্ন ও কর ফেরত ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ও শুল্কমুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত ফ্রি ট্রেড জোন কাঠামো। এসব উদ্যোগ নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা বৃদ্ধি, ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ এবং বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন তারল্য সংকট / ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

একই সঙ্গে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইউরোচ্যামের মতে, এসব লক্ষ্য অর্থনীতির পুনরুদ্ধার নিয়ে সরকারের আস্থার প্রতিফলন হলেও তা অর্জনের জন্য বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকার, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী সংস্কার জরুরি।

Advertisement

সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের দেওয়া বেশ কয়েকটি সুপারিশ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কর প্রশাসন সংস্কার, কর দাখিলের ডিজিটালাইজেশন, স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত ব্যবস্থা, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট নির্বাচন, ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেশন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সম্প্রসারিত সুবিধাগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইউরোচ্যাম। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদন খাতের জন্য প্রস্তাবিত প্রণোদনাকেও স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ইউরোচ্যামের কিছু প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে করপোরেট কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ, বিনিয়োগে কর রেয়াত বৃদ্ধি, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ের বৃহত্তর কর-সুবিধা এবং কিছু খাতভিত্তিক কর সমন্বয়। এসব বিষয়ে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় বাড়েনি করহার, বরং সুবিধা বাড়ছে ছোটদের

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ইউরোচ্যাম বলেছে, উচ্চমানের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য সুবিধাকরণ, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণে গুরুত্ব অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও গভীর সংযুক্তি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মধ্যমেয়াদি একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন প্রয়োজন।  

বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিক শামা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর প্রশাসন, বাণিজ্য সুবিধাকরণ এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের প্রাক্কালে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন ও নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা মূলত কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।  

Advertisement

তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ।  

এসএম/কেএসআর