মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম দেশটির মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
Advertisement
বৈঠকে মৎস্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নীল অর্থনীতি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের মন্ত্রী দেশটির কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, কৃষি গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিক ও পেশাজীবীদের অবদানেরও প্রশংসা করেন।
Advertisement
হাইকমিশনার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষি খাতে প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে কৃষি খাতে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা করেন।
মৎস্য খাতে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় মালদ্বীপের বিশ্বখ্যাত টুনা শিল্প। হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, টেকসই টুনা মৎস্য ব্যবস্থাপনায় মালদ্বীপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সফল মডেল।
তিনি বলেন, এ খাত বাংলাদেশের জন্য নতুন বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানি সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
উভয় পক্ষ নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তিগত বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছান।
Advertisement
বৈঠকে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি জেলে, মৎস্যকর্মী ও কৃষিশ্রমিকদের অবদানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব দেন হাইকমিশনার।
মন্ত্রী আহমেদ শিয়াম বাংলাদেশের শ্রমশক্তির অবদানের প্রশংসা করে মৎস্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ভবিষ্যৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য, কৃষি ও নীল অর্থনীতি খাতে বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এমআরএম