ওজন কমানো স্বাস্থ্যের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। বর্তমান সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণে ওজন কমালে শরীর হালকা লাগে, চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্য আসে এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। একই সঙ্গে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমে যায়। তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু শরীরের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পড়ে ত্বক ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপরও।
Advertisement
ওজন কমানোর পর অনেকেই লক্ষ্য করেন যে ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে গেছে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ত্বক কিছুটা ঢিলা বা শিথিল হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে থাকলে ত্বক প্রসারিত হয়ে যায়। যখন দ্রুত ওজন কমে যায়, তখন ত্বক সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।
এই পরিবর্তন নির্ভর করে বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন কমানোর গতির ওপর। ধীরে ধীরে ওজন কমালে ত্বক নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়, ফলে ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়।
আরও পড়ুন প্রতিদিনের গোসলে মানসিক শান্তি মেলে ঢিলা হয়ে যাওয়া ত্বকওজন কমানোর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি হলো ত্বক ঢিলা হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে পেট, বাহু, উরু এবং মুখের ত্বকে এই পরিবর্তন বেশি দেখা যায়। শরীরের ওজন বাড়লে ত্বক কোলাজেন ও ইলাস্টিন ফাইবারের মাধ্যমে প্রসারিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় এই অবস্থায় থাকলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়।
Advertisement
ফলে দ্রুত ওজন কমালে ত্বক সেই জায়গা অনুযায়ী সংকুচিত হতে সময় নেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ঢিলা ভাব ধীরে ধীরে কমে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
চেহারার ওপর প্রভাবওজন কমানোর প্রভাব মুখে সবচেয়ে দ্রুত দেখা যায়। গালের চর্বি কমে গেলে চোয়ালের রেখা ও হাড়ের গঠন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকের কাছে এটি আকর্ষণীয় মনে হলেও কিছু ক্ষেত্রে মুখ কিছুটা বসে যাওয়া বা ক্লান্ত দেখাতে পারে। খুব দ্রুত ওজন কমালে মুখের ভলিউম হঠাৎ কমে যায়, যা বয়সের ছাপও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ধীরে ও সঠিক পদ্ধতিতে ওজন কমানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
ওজন কমানোর ইতিবাচক সুফলওজন কমানোর অনেক স্বাস্থ্যগত উপকার রয়েছে। শরীরের অতিরিক্ত প্রদাহ কমে যায়, রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ে। ফলে ত্বকও আরও পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেলে ব্রণ ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ফলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
Advertisement
অনেকেই মনে করেন ওজন কমলে স্ট্রেচ মার্কস সম্পূর্ণভাবে চলে যায়, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। বরং প্রথম দিকে চর্বি কমে যাওয়ার কারণে স্ট্রেচ মার্কস আরও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো সাধারণত ফিকে হয়ে আসে এবং কম দৃশ্যমান হয়।
ওজন কমানোর সঠিক পদ্ধতির গুরুত্বত্বকের স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে কীভাবে ওজন কমানো হচ্ছে তার ওপর। হঠাৎ ডায়েট বা ক্র্যাশ ডায়েট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ত্বক শুষ্ক, নিস্তেজ এবং দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল গ্রহণ ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ভালো স্কিনকেয়ার রুটিন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ওজন কমানো যেমন শরীরের জন্য উপকারী, তেমনি এর কিছু বাহ্যিক পরিবর্তনও স্বাভাবিক। ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে ওজন কমালে এবং সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করলে ত্বকও সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, ভোগ
এসএকেওয়াই