বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক উত্থানের গল্পে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ অধ্যায়। তবে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের চোখে এটি শেষ গন্তব্য নয়, বরং আরও বড় স্বপ্নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজের আগে ২২ বারের দেখায় অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয় ছিল ২১ বছর আগে।
Advertisement
অধিনায়ক মিরাজের অধীনে এ নিয়ে টানা চার ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। গত বছরের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতাই বজায় থাকল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও। ধারাবাহিকতা নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। অধিনায়ক হিসেবে অবশ্যই আমার কাছে ভালো লাগার জিনিস এগুলো। পাশাপাশি, যারা ক্রিকেট খেলা দেখছে এবং আপনারা যারা আছেন, সবাই ভালো অনুভব করছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিপক্ষে যদি আমরা ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ থাকে।’
বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের প্রশংসাও আলাদা তৃপ্তি দিচ্ছে অধিনায়ককে, ‘তারা কিন্তু আমাদেরকে নিয়ে কথা বলছে, প্রশংসা করছে বোলারদেরকে নিয়ে, ব্যাটসম্যানদেরকে নিয়ে এবং তাদেরকে যে আমরা কঠিন সময়টা দিচ্ছি, সেটা নিয়ে তারা আমাদেরকে সেই সম্মানটা দিচ্ছে। এটা অবশ্যই উন্নতির একটা লক্ষণ এবং আশা করি, এভাবে যদি চালিয়ে করতে পারি, আরও ভালো একটি দল হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সাফল্যকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ অর্জন বলেও মনে করেন মিরাজ। তিনি বলেন, “এটা অবশ্যই অনেক স্পেশাল। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আগে আমরা কখনোই সিরিজ জিতিনি। একটা ম্যাচ আমরা হয়তো জিতেছিলাম, সেই ২০০৫ সালে। আমি অনেক ছোট ছিলাম, আমি দেখেছিলাম ম্যাচটা। আমার এখনও মনে আছে। এবার যেহেতু আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ জিতেছি, এটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা অর্জন।’
Advertisement
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আরও সবচেয়ে বড় অর্জন এটাই মনে করি যে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা আমাদেরকে নিয়ে প্রশংসা করছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে এবং বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে, উইকেট নিয়ে, ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে। এটা আমাদের একটা বিরাট অর্জন।’
তবে এই সাফল্যেই থেমে থাকতে রাজি নয় বাংলাদেশ দল। মিরাজ জানালেন, তাদের লক্ষ্য আরও বড়—বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে নিজেদের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলছেন, ‘আমাদের কিন্তু দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। গত এক বছরে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। এটা আসলে একদিনে সম্ভব নয়। এর আগেও বলেছি, একটা দল যখন আমরা (গঠন) করি, তখন অবশ্যই আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকে যে, আমরা কীভাবে দলটাকে বানাব এবং কী কম্বিনেশনে আমরা খেলব।’
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, ‘গত এক বছর আমরা ওভাবেই পরিকল্পনা করেছি, সামনে আমাদের বিশ্বকাপ আছে, কোন পজিশনে কাকে সেট করব এবং কোন পজিশনে একটা ক্রিকেটারকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেব। এটা আমরা করেছি এবং বিভিন্ন সময় আপনারাও দেখেছেন যে, বিভিন্ন পজিশনেও খেলতে হয়েছে অনেক ক্রিকেটারকে। এটা শুধু আমাদের (দ্বিপাক্ষিক) সিরিজ না, সামনে যে বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ আছে, সেটাকে লক্ষ্য করেই আমরা এগোতে চাচ্ছি এবং সেই পরিকল্পনাগুলো সাজাচ্ছি এবং আশা করি যে, আমরা ভালো একটা দলে পরিণত হয়েছি এখন।’
এসকেডি/জেআইএম
Advertisement