বর্তমানে থাইরয়েডের সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। বয়স বা লিঙ্গভেদে নয়, শিশু থেকে বয়স্কসহ অনেকেই কমবেশি এই হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
Advertisement
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, চুল পড়া, ত্বকের সমস্যা, ঋতুচক্রে অনিয়মসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তবে থাইরয়েড নিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে। বিভিন্ন সময় দেখা যায়, কেউ দাবি করছেন বিশেষ কোনো ডায়েট, ভেষজ পানীয়, ডিটক্স ড্রিংক বা যোগব্যায়ামের মাধ্যমে থাইরয়েড পুরোপুরি সারিয়ে ফেলা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এ বিষয়ে কী বলছে?
থাইরয়েড কি ওষুধ ছাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব?বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো সমস্যায় নিয়মিত চিকিৎসা না নিলে দীর্ঘমেয়াদে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
Advertisement
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, থাইরয়েডের সমস্যা সাধারণত নিজে থেকে সেরে যায় না। হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায় বা ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ভূমিকাঅনেকেই মনে করেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে ঠিকই, তবে এগুলো ওষুধের বিকল্প নয়।
বরং এগুলোকে চিকিৎসার সহায়ক বা পরিপূরক হিসেবে দেখা উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন থাইরয়েড রোগীর সামগ্রিক সুস্থতা বাড়াতে পারে এবং কিছু উপসর্গ কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
ডায়েট কি থাইরয়েড সারিয়ে দিতে পারে?সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের ডিটক্স ডায়েট, ভেষজ পানীয় এবং সাপ্লিমেন্ট নিয়ে প্রচারণা দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, এসব ব্যবহার করলে থাইরয়েডের ওষুধ ছাড়াই সুস্থ থাকা সম্ভব।
Advertisement
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যা দেখায় যে ডিটক্স পানীয় বা ভেষজ টোটকা থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য স্থায়ীভাবে ঠিক করতে পারে। বরং অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব গ্রহণ করলে শরীরে অন্য ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কখন ওষুধ ছাড়াই স্বাভাবিক হতে পারে?সব ক্ষেত্রে অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের প্রয়োজন হয় না। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে থাইরয়েডের সমস্যা সাময়িক হতে পারে।
গর্ভাবস্থাজনিত পরিবর্তনগর্ভাবস্থায় অনেক নারীর থাইরয়েড হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন দেখা যায়। তবে সন্তান জন্মের পর অনেক ক্ষেত্রেই তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
আরও পড়ুন ঘুমের আগে পা ধোয়ার উপকারিতা জানলে অবাক হবেন থাইরয়েডে সাময়িক প্রদাহকখনো কখনো ভাইরাস সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে থাইরয়েডের কার্যকারিতায় সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে। মূল কারণ দূর হলে হরমোনের মাত্রাও স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।
টিএসএইচ সামান্য বৃদ্ধিকিছু মানুষের ক্ষেত্রে টিএসএইচের মাত্রা সামান্য বেশি থাকলেও কোনো উপসর্গ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা অনেক সময় পর্যবেক্ষণ, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন প্রতিদিনের গোসলে মানসিক শান্তি মেলে বিশেষজ্ঞের জরুরি পরামর্শথাইরয়েড এমন একটি সমস্যা যা অবহেলা করলে হৃদরোগ, বন্ধ্যাত্ব, হাড়ের সমস্যা এবং অন্যান্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই ইন্টারনেটের তথ্য বা ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সূত্র: হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই