অর্থনীতি

খুরশীদ আলমকে অপসারণে ইসলামী ব্যাংকে স্বস্তি, কমেছে আমানত তোলার চাপ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খুরশীদ আলমকে অপসারণ এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তের পর ব্যাংকটির গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

Advertisement

গত ১৫ দিনে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা উত্তোলন করলেও সোমবার (১৫ জুন) থেকে সেই চাপ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, খুরশীদ আলম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর জেরে ১ জুন থেকে বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আমানত তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গত রোববার (১৪ জুন) কিছু ক্ষেত্রে চেক ক্লিয়ারিং, তহবিল স্থানান্তর, শাখা ও এটিএম বুথে নগদ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। তবে একই রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়োগ বাতিল করলে পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

Advertisement

ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গ্রাহকরা প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এ সময়ে নতুন আমানত জমা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল, প্রশাসক নিয়োগ ইসলামী ব্যাংকে বন্ধ হিসাব ৭ দিনের মধ্যে চালু করলে মিলবে আগের সব সুবিধা

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। এর আগের দিন দেওয়া হয় ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। গ্রাহকদের সব ধরনের বৈধ চাহিদা পূরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুযোগ

ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ১৫ জুন সময়ের মধ্যে যেসব গ্রাহক আতঙ্কে এমটিডিআর, এমএসবি, এমএমপিডিএস ও এমএসএ হিসাব মেয়াদপূর্তির আগেই ভেঙে নগদায়ন করেছেন, তারা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব পুনরায় চালু করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা, চার্জ বা আর্থিক ক্ষতি বিবেচনা করা হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোকে চলমান হিসাব হিসেবে গণ্য করা হবে এবং গ্রাহকরা আগের সুবিধাগুলো ফিরে পাবেন।

Advertisement

গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি

পান্থপথ শাখার এক গ্রাহক রুবিনা বলেন, ‘রোববার আমার এফডিআর ভাঙানোর জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু রাতে চেয়ারম্যান ও পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর আপাতত টাকা তুলছি না।’

আরও পড়ুন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন: প্রশাসক তারল্য সংকট / ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

লোকাল অফিস শাখার গ্রাহক মনির হোসেন বলেন, ‘রোববার সব টাকা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে সোমবার আর তুলিনি। নতুন নেতৃত্বে ব্যাংক কীভাবে এগোয়, সেটা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

এবিবির স্বাগত

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, এ সিদ্ধান্ত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘গত কয়েকদিনে গ্রাহকরা ব্যাপক হারে আমানত উত্তোলনের চেষ্টা করেছেন। তবে সোমবার থেকে সেই চাপ কমতে শুরু করেছে। গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ দিনে যেসব গ্রাহক হিসাব ভেঙে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তারা পুনরায় হিসাব চালু করলে আগের সুবিধা ফিরে পাবেন।

ইএআর/এমএমকে